শাপলা চত্বরে শহীদসহ জুলাই আন্দোলনের সকল শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে– আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৫ মে) বিআইএ মিলনায়তনে মজলিসে শুরার সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শুরা অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর পরিবেশবিদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক ও অধ্যাপক নুরুল আমীন চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আজ ঐতিহাসিক ৫ মে শাপলা ট্রাজেডি দিবস। আজকের এই রক্তস্নাত ঐতিহাসিক দিনে আমরা শাপলার শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। ২০১৩ সালের ৫ মে রাতের আঁধারে আলেম ওলামাদের যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, এই শাপলা ট্র্যাজেডির বিচার কাজ দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করতে হবে।শাপলার শহিদসহ অসংখ্য শহিদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী মজলুমদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের বীজ বপিত হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান ও শাপলা গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। শহীদ পরিবারকে রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলা ট্রাজেডিসহ সকল রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক খুন, গুম, হামলার সাথে জড়িত সকল অপরাধীর বিচার করতে হবে।

মজলিশে শুরার অধিবেশনে জনস্বার্থে দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে গণভোটের রায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ নাগরিকদের অধিকারের রক্ষাকবচ এবং নতুন ফ্যাসিবাদ সৃষ্টির পথে অন্তরায়। অতএব, দেশ, জাতি ও জুলাই জনতার স্বার্থে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

মজলিশে শুরায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম- কক্সবাজার দেশের অন্যতম মহাসড়ক। কিন্তু সড়কটিতে প্রায় প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষ হতাহত হচ্ছে। অনতিবিলম্বে চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লাইনে এবং বাঁশখালী-চকরিয়া সড়ক ৪ লাইনে উন্নীতকরণ জোর দাবি জানান। আর অন্তর্বতী সরকারের ভিত্তি প্রস্তরকৃত চট্টগ্রাম কালুরঘাট সেতু পুণঃনির্মাণেরও দাবি জানান।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাতকানিয়া, পটিয়া ও বোয়ালখালীসহ প্রায় সকল উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মজলিশে শুরা। সাতকানিয়া ও পটিয়ায় দুর্বৃত্তের হামলায় দুইজন ব্যবসায়ী নিহত হয়। এছাড়াও অতর্কিত হামলা, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা ঘটছে। অনতিবিলম্বে এসব হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিচার নিশ্চিত সহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনকে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হবে।

জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মজলিসে শুরা অধিবেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল্লাহ, ড. হেলাল উদ্দীন মুহাম্মদ নোমান, জেলা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী মুহাম্মদ জাকারিয়া, অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি, এডভোকেট আবু নাছের, জেলা সাংগঠনিক সেক্রেটারী ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল হোসাইন, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা আবুল আফীফ, মাওলানা কামাল উদ্দীন, মাওলানা আবুল ফয়েজ, মুহাম্মদ নুরুল হক, অধ্যক্ষ ইসমাইল হক্কানী, মাওলানা আরেফে জামী, মাওলানা আরিফুর রশীদ, আ ক ম ফরিদুল আলম, অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী সহ জেলা শুরা সদস্যবৃন্দ।