রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় মারা যাওয়া ৬০ বছর বয়সী পুরুষ হাতিটির মরদেহ নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
হাতিটির মৃত্যুর পর পাহারায় থাকা সঙ্গী হাতিটি সরে যাওয়ার পর রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতের অন্ধকারে কে বা কারা মৃত হাতিটির শুঁড় ও পায়ের মাংস কেটে নিয়ে গেছে। মৃতদেহ বিকৃতির এমন অমানবিক ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রফিকুজ্জামান শাহ্ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোববার সারাদিন সঙ্গী স্ত্রী হাতিটি মৃতদেহের পাশে থাকায় বন বিভাগের কর্মীরা কাছে যেতে পারেননি। রাতে ঝড়-বৃষ্টি এবং নিরাপত্তার কারণে মরদেহটি ফেলে রেখেই ইআরটি সদস্যরা ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন।
ডিএফও মো. রফিকুজ্জামান শাহ্ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোববার রাতে সুযোগ বুঝে কে বা কারা হাতিটির শুঁড় ও পায়ের মাংস কেটে নিয়ে গেছে। এটি অপরাধমূলক কাজ। আমাদের টীম ভেটেরিনারি সার্জনসহ ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি ও ময়নাতদন্তের জন্য নমুনা সংগ্রহের পর দ্রুতই হাতিটিকে মাটিচাপা দেওয়া হবে, যাতে মরদেহ আর কোনোভাবে বিকৃত করার সুযোগ না থাকে।
হাতিটির মরদেহ বিকৃতির ঘটনায় স্থানীয় পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সচেতন মহলে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে লংগদুর স্থানীয় সংবাদকর্মী বিপ্লব ইসলাম তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বন্যপ্রাণীর প্রতি মানুষের এমন নিষ্ঠুরতা সত্যিই মর্মান্তিক। একটি প্রাণীর মৃত্যুর পর তাকে শান্তিতে থাকতে না দিয়ে তার দেহাবশেষ কেটে নেওয়া বন্যপ্রাণী আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। প্রশাসনের অবহেলা বা নজরদারির অভাব ছিল কি-না, তাও তদন্ত করে দেখা উচিত।
উল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও দীর্ঘদিনের সংক্রমণ নিয়ে গত রবিবার লংগদুর ভাসান্যাদাম এলাকায় হাতিটি মারা যায়। দাঁতবিহীন এই হাতিটিকে সুস্থ করে তোলার জন্য চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডুলহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকরা গত ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। ময়নাতদন্তের নমুনা সংগ্রহ শেষে বন বিভাগের নির্ধারিত নিয়মানুযায়ী হাতিটির মৃতদেহ মাটিচাপা দেওয়া হবে।












