কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর নজরুল ইসলাম বলেছেন, অবিলম্বে জনরায়কে সম্মান জানাতে হবে। গণভোটে জনগণ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেটিই দেশের মানুষের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন। তাই দেরি না করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করা মানে গণতন্ত্রকে অবমূল্যায়ন করা। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ন্যায্য দাবি জানাচ্ছি; কিন্তু যদি এই জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হয়, তাহলে জনগণ নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের উদ্যোগে চন্দনপুরা সাফা আর্কেড কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত রুকন প্রার্থী ও অগ্রসর কর্মীদের দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমীর আলাউদ্দিন সিকদারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আব্দুল জব্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক আমীর ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে দারসুল কোরআন পেশ করেন ড. মোহাম্মদ আবুল কালাম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম, সাংগঠনিক সেক্রেটারি আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী, জেলা শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাস্টার নুরুচ্ছালাম, অধ্যক্ষ নুরুন্নবী, মাওলানা জামাল হোসাইন, ইউসুফ বিন আবু বক্কর,ইঞ্জিনিয়ার বোরহান উদ্দিন, অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন, জসিম উদ্দীন আজাদ, মাওলানা মুহিউদ্দীন, রফিকুল ইসলাম, রাউজান উপজেলা আমীর শাহজাহান মঞ্জু এবং জেলা সহকারী অফিস ও প্রচার সেক্রেটারি এজাহারুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে ইসলামের ইতিহাসে বাইয়াতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবাগণ তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণের মাধ্যমে আনুগত্য ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে বাইয়াতে রিদওয়ান ইসলামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যেখানে সাহাবারা জীবন বাজি রেখে ইসলামের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, মুমিন জীবনে বাইয়াতের উদ্দেশ্য হলো আত্মশুদ্ধি, চরিত্র গঠন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। একজন ব্যক্তি যখন বাইয়াত গ্রহণ করে, তখন সে গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করে, নেক আমলের প্রতি আগ্রহী হয় এবং একজন সৎ পথপ্রদর্শকের অধীনে নিজের জীবন পরিচালনা করে। তবে বাইয়াত যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে—এর প্রকৃত মূল্য তখনই, যখন তা আন্তরিকতা, আমল এবং আল্লাহভীতির মাধ্যমে বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হয়। সারসংক্ষেপে, বাইয়াত মুমিনের আত্মশুদ্ধির একটি কার্যকর মাধ্যম, যা তাকে সৎ পথে পরিচালিত করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়তা করে।
সভাপতির বক্তব্যে আলাউদ্দিন সিকদার বলেন, একজন কর্মীর জন্য দ্বীনি যোগ্যতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। কারণ জ্ঞান ছাড়া দাওয়াতি কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কুরআন-হাদীসের মৌলিক জ্ঞান, আকীদা, ইবাদত ও নৈতিকতার সঠিক ধারণা একজন কর্মীকে শক্ত ভিত্তি প্রদান করে।
তিনি আরও বলেন, দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে কর্মী নিজের আমলকে শুদ্ধ করে এবং মানুষের সামনে ইসলামের সঠিক বার্তা উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়। তখন তার কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে, যা দাওয়াতের প্রভাব বৃদ্ধি করে। ময়দানে দাওয়াতি কাজ করতে হলে শুধু জ্ঞানই নয়, প্রয়োজন সুন্দর আচরণ, ধৈর্য এবং প্রজ্ঞা। মানুষের সঙ্গে নম্রতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে কথা বলা দাওয়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।












