শফিউল আলম, রাউজান: হাটহাজারীতে হালদা নদীর বেরিবাঁধ এলাকায় রাউজান থেকে ওরশে আসার সময় হামলার শিকার হয়ে সাব্বির (২১) নামের এক যুবক হালদা নদীতে নিখোঁজ হয়েছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিখোঁজ হওয়া ভিকটিমের বড় ভাই মো. টিপু এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।এর আগে, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডস্থ রামদাশ মুন্সির হাটের হালদা নদীর খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ যুবক সাব্বির রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মৈশকরমস্থ মানাউল্লাহ চৌধুরী বাড়ির আবদুল মান্নানের পুত্র।

জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে নৌকায় করে ভিকটিম সাব্বির তার ৮-১০ জন বন্ধুসহ হাটহাজারী উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় হযরত আবদুল করিম শাহ (রা.)-এর বার্ষিক ওরশ শরীফে আসছিলেন। তাদের বহনকারী নৌকা রামদাশ মুন্সির হাট খেয়াঘাটে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় নৌকায় থাকা সকলে আত্মরক্ষায় কেউ কেউ নদীতে লাফিয়ে পড়ে। এরপর থেকে নিখোঁজ হয় সাব্বির। ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা ভিকটিম সাব্বিরের বন্ধু মারুফ জানায়, পথে হামলার শিকার হলে নৌকা থেকে সে ও লাফ দেয়। তাদের সঙ্গে থাকা অন্যরা সাঁতার কেটে কূলে উঠতে পারলেও সাব্বির উঠতে পারেনি। পরে ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, দুই গ্রুপের পূর্বের একটি দ্বন্দ্বের কারণে গতকাল রাতে এ হামলা হয়। হামলার এক পর্যায়ে সে নদীতে লাফ দিয়ে আর উঠতে পারেনি। ভিকটিম সাব্বিরের আপন চাচাতো ভাই মো. টিপু জানান, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে। কারা এ হামলা চালিয়েছে তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি।হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা রামদাশ মুন্সির হাট নৌ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রমজান জানান, খবর পাওয়ার পর থেকে নদীতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ যুবকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আবদুল মান্নান রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ প্রতিবেদককে জানান, জেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী ৮ জনের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ধার প্রক্রিয়া চলমান আছে। এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগও করা হয়নি।












