পাতানো নির্বাচন হচ্ছে না: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, এখন পর্যন্ত সারা দেশে সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন হচ্ছে। দুই একটা যায়গায় কেন্দ্রের বাইরে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার সমাধান করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, ঠাকুরগাঁয়ে একটি কেন্দ্রে মাঠে জামায়াত ও বিএনপির দুই নেতা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাসিমুখে কথা বলছেন। এটাইতো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইস্কাটনে ভোটপ্রদান শেষে সিইসি একথা বলেন।
সিইসি বলেন, ‘২০২৬ সালে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বড় নির্বাচন হচ্ছে বাংলাদেশে। এতবড় নির্বাচন বিশ্বের আর কোথাও হয়নি। গতকাল বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছি।

প্রত্যেকেই অত্যন্ত আনন্দিত আমাদের আয়োজন দেখে।’
তিনি বলেন, ‘আমার প্রায় ১৭ লক্ষ লোক কাজ করছে এই নির্বাচন কাজে। এদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রায় ৮ লক্ষ ব্যক্তি যারা ভোটগ্রহণ করবেন। এই ১৭ লক্ষ লোককে একসূতায় গাঁথা যে কত কঠিন কাজ, আপনারা একবার কল্পনা করে দেখুন।

বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা এখানে আছে, বিভিন্ন স্কুলের, বিভিন্ন সংগঠনের মানুষ এখানে রয়েছে। এদের সবাইকে নির্বাচনের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানোর এই কর্মযজ্ঞর মতো আর কাজ নেই।’
সিইসি আরো বলেন, ‘আমরা এই পর্যন্ত সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এসেছি। আমি জানি না সামনে আর কী চ্যালেঞ্জ আসবে, তবে আপনাদের সবাইকে নিয়ে আমি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব। বাংলাদেশ যে গণতন্ত্রের পথে রওনা দিয়েছে, গণতন্ত্রের সেই ট্রেন ইনশাআল্লাহ্‌ স্টেশনে পৌঁছাবে।

পাতানো নির্বাচনের অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘এটা আপনারাই বলেন এখানে পাতানো নির্বাচন হচ্ছে কি না। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে আমরা প্রতিশ্রুতি জাতিকে দিয়েছিলাম, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে গেছি। আমরা কারো পক্ষে নই, কারো বিপক্ষে নই। আমরা শুধুমাত্র নির্বাচনের একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছি। এবং আমার ধারণা আমি সবার সহযোগিতা নিয়ে সেটা করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি একদিন বলেছিলাম যে এদেশে কখনো পাতানো নির্বাচন হবে না। পাতানো নির্বাচনের কথা ভুলে যেতে হবে, কেন্দ্র দখলের ইতিহাস আমাদের ভুলে যেতে হবে, ভোটের বাক্স দখলের ইতিহাস আমাদের ভুলে যেতে হবে।’

সিইসি আরো বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট মিলিয়ে ২৫৪ মিলিয়ন ব্যালট পেপার আমাদের ছাপাতে হয়েছে। সেটা কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। বিষয়টা একবার ভাবুন, কতবড় একটা কাজ আমাদের কাঁধে নিতে হয়েছে।’