চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহতের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে র্যাবের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ২৯ জনের সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে, বুধবার রাতেই জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালিয়ে জাহিদ, ইউনুস ও আরিফ নামের তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলা ও গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম। তিনি জানান, জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত ও তিনজন আহতের ঘটনায় বুধবার রাতে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার পর পরই অভিযান চালিয়ে জাহিদ, ইউনুস ও আরিফ নামের তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার র্যাবের ওপর হামলার পর তিন সদস্যকে জিম্মি করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। সেসময় সন্ত্রাসীরা র্যাবের চারটি অস্ত্র লুট করে নিয়ে যায়। তবে হামলার ঘটনার রাতে র্যাব অভিযান চালিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ের ভেতরের একটি কক্ষ থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার বিকেলে র্যাব-৭-এর একটি আভিযানিক দল মেজর জালিস মাহমুদ খানের নেতৃত্বে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশে অভিযান পরিচালনা করে। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০-৫০০ দুষ্কৃতকারী র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় র্যাবের চার সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে থানা-পুলিশের সহযোগিতায় আহত র্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে পাঠানো হয়। এরপর চট্টগ্রাম সিএমএইচের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাকি তিন র্যাব সদস্য বর্তমানে চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওই ঘটনার সময় নুরুল আলম মনা নামের আহত একজনকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ফোজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. সোহেল রানা।












