রাউজান বাস স্টেশন বাণিজ্যিক কেন্দ্র, হাজার হাজার মানুষের পদচারনায় মুখরিত

শফিউল আলম, রাউজানঃ চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার গুরুত্বপুর্ণ স্থান হলো রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশন। এক সময়ে রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশনের নাম ছিল রাউজান মদের মহল বাস ষ্টেশন। রাউজান মদের মহল বাস ষ্টেশন হাতো গোণা কয়েকটি ভাতের হোটেল কয়েকটি দোকান ছিল। মরহুম আবদুল কুদ্দুস সওদাগর, মরহুম রহমত উল্ল্রাহ সওদাগর, মরহুম আনোয়ার সওদাগর, মরহুম দুদুমিয়া সওদাগর, মরহুম হাশেম সওদাগর, মরহুম মুন্সি মিয়া সওদাগারের ভাতে হোটেল ছিল। পরিবহন শ্রমিক ও পথচারী ও যাত্রীরা এইসব হোটেলে খাওয়া দাওয়া করতো । মদের মহল বাস ষ্টেশনে ছিল পাহাড়ী চেলাই মদের রমরমা ব্যবসা।

প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মদ্যপায়ী মাতালদের দখলে থাকতো মদর মহল বাস ষ্টেশন। মদ্যপায়ী মাতালদের উৎপাতে সাধারন মানুষ চলাফেরা করতো ভয় পেতো । এরশাদ সরকারের শাসন আমলে রাউজান উপজেলা চেয়্রাম্যান এম এ আবদুল্ল্রাহ মদের মহলের নাম পরিবতনের জন্য এলাকার স্থানীয় জনপ্রনিধি, গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সভা করেন। সভায় উপস্থিত সকলে সর্বসম্মতি ক্রমে রাউজানের মোহাম্মদ পুর গ্রামের আধ্যাত্বিক সাধক অধ্যাপক আবদুল জলিল মহিউল ইসলাম এম এ নাম অনুসারে মদের মহল বাস ষ্টেশন থেকে রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশন নামকরনের সিদ্বান্ত গৃহিত হয়।

রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশনের নামকরনের সিদ্বান্তকে তৎকালীন এরশাদ সরকারের মন্ত্রী মরহুম জিয়াউদ্দিন আহম্মদ বাবলু মন্ত্রানালয়ে প্রেরণ করে। রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশন নাম মন্ত্রনালয় থেকে অনুমোধন দেয়ার পর ১৯৮৮ সালে রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এম আবদুল্ল্রাহ গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মদের মহল নাম বাদ দিয়ে রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশনের উদ্বোধন করেন। এর পর থেকে মদের মহল থেকে রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশনের নামকরন করা হলে রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশন হিসাবে পরিচিত লাভ করে। রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশশের হাফেজ বজলুর রহমানে সড়কের মুখে আধ্যাত্বিক সাধক অধ্যাপক আবদুল জলিল মহিউল ইসলাম নামে একটি তোরন নির্মান করে গত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে।

এক সময়ের মদের মহল বাস ষ্টেশন নাম পরিবর্তন হয়ে রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশন হওয়ার পর থেকে এটি একটি বাণ্যিজিক এলঅকা হিসাবে গড়ে উঠে। রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশনে গত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে নির্মান করা রাউজান উপজেলা মডেল জামে মসজিদ। রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশনের অল্প দক্ষিনে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর সদর দপ্তর। রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশনে হাজী আবছার মাকেট, এজাহার মাষ্টার মার্কেট, আবু তাহের মার্কেট, কবির টাওয়ার, কাদের মার্কেট, শাহআলম সওদাগর মার্কেট, জগ্নণাথ মন্দির ও জগ্নাথ মনিদর মার্কেট, আমিনুল হক মার্কেট, গোলাপ কোমপানী মাকেট, রাউজান পৌরসভা মার্কেট, রাউজান পৌরসভা মাকের্টের ২য় তলায় রাউজান প্রেস ক্লাবের অস্থায়ী কার্যলয় গড়ে উঠেছে। রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশনে আপন বাড়ী, আমানিয়া হোটে, আজমীর হোটেল, ভাতঘর, শাপলা হোটেল, রয়েছে। চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতি, চট্টগ্রাম বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন, রাউজান ট্রাক মালিক সমিতি, রাউজান ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্য়লয় রয়েছে। রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশনে রয়েছে দুটি প্রেট্রোল পাম্প, রয়েছে ৭ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্টান। কাচা বাজার ও মাংস মাছ বিক্রয় করার হাট। রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশনে জনতা ব্যাংত প্রাইম ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এর শাখা রয়েছে। রয়েছে চারটি ডায়গনেষ্টিক সেন্টার।

রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশন দিয়ে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে যাত্রীবহি বাসে করে। পর্যটন শহর রাঙাগামাটি যাওয়ার পথে দেশী বিদেশী পর্যটক রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশন দিয়ে যাতাযাত করেন। শত শত পণ্যবাহি ট্রাক কার্ভড ভ্যান প্রতিদিন চলাচল করেন রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশনের উপর দিয়ে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সময়ে হাজার হাজার মানুষের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশন। একসময়ে মদের মহল বাস ষ্টেশনটি রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশন হিসাবে পরিচিতি লাভ হওয়ার পর থেকে এটি একটি বাণ্যিজিক এলাকা হিসাবে গড়ে উঠেছে।

রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশনের আপন বাড়ী রেস্তোর্রা মালিক আবুল হোসাইন বাবু জানান। তার রেষ্টেুরেন্টে প্রতিদিন ৮০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা বিক্রয় হয়।