মুক্তিযুদ্ধ তো এমনি এমনি হয়নি। কেউ হঠাৎ হুঁইসেল বাজালো আর বাংলাদেশের সমস্ত মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লো, তিরিশ লাখ মানুষ মারা গেল, সেভাবে তো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ একটি ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল। বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
শুক্রবার (০৭ জুন) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর জেলা ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত ছয়দফা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছয়দফা ঘোষণা, যেটি বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ রচনার ক্ষেত্রে মেগনাকার্টা; বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা এগুলোর সঙ্গে তো বিএনপির কোনো দ্বন্দ্ব থাকার কথা নয়! কিন্তু তারা এ দিবসগুলো পালন করে না কেন? এটি আজকে আমাদের প্রশ্ন।তিনি বলেন, বিএনপি ছয়দফা দিবস পালন করে না কেন? ৭ই মার্চ পালন করে না কেন? কারণ তারা প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানি ভাবধারায় বিশ্বাস করে এবং তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পর যখন রায় হলো তখন পাকিস্তান বিবৃতি দিল আর এখানে (বাংলাদেশে) বিএনপি বিবৃতি দিল। এতে প্রমাণিত হয়-আসলে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির নেতারা বলেন- তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে ঈদ করছেন। তিনি জেলে গেছেন তার কর্মদোষে। তার আরও আগে জেলে যাওয়া উচিত ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের হওয়া দুর্নীতি মামলায় জেলে গেছেন তিনি। বেগম জিয়া কোনো রাজবন্দি নন। তিনি কারাগারে আছেন দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে। তবুও তিনি কারাগারে যে সুবিধা পাচ্ছেন, পাক-ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে কোনো বন্দি এমন সুযোগ-সুবিধা পাননি।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করা হয়- বেগম জিয়া অসুস্থ, তার জীবন সংকটাপন্ন। কয়েকদিন আগে বেগম জিয়ার নিজের জিহ্বায় তার কামড় লেগেছে। সেকারনে তিনি কয়েকদিন ভালোমতো খেতে পারেননি। সেটাকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব, রিজভী আহমেদ বললেন- বেগম জিয়ার জীবন সংকটাপন্ন! জিহ্বায় কামড় আমাদেরও লাগে। আর বেগম জিয়ার জিহ্বায় তো অন্য কেউ কামড় দেয়নি, নিজের জিহ্বায় নিজে কামড় দিয়েছেন।
এ সময় বিএনপির রাজনীতি বেগম জিয়ার হাঁটুর ব্যথ্যা, কোমড় ব্যথায় আটকে আছে বলেও মন্তব্য করেন ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নেতারা রাজনৈতিক কাক। তারা সবাই বিভিন্ন দল থেকে এসেছেন। বিএনপিতে দুই ধরনের নেতা আছেন- কেউ বিএনপি বাই চান্স, আবার কেউ বিএনপি বাই এক্সিডেন্ট। ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট, সুবিধাভোগীদের নিয়ে বিএনপি গঠিত। মওদুদ আহমেদ সব দল করেছেন। চট্টগ্রামে বিএনপির বড় বড় নেতারাও আগে অন্য দল করতেন।’
শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, যারা নতুন প্রজম্ম আছেন তাদের রাজনৈতিক ইতিহাস জানতে হবে। ছয়দফা সম্পর্কে জানার দরকার আছে। ছয়দফায় কী কী ছিল তা জানার দরকার আছে। রাজনীতিতে এসে আমরা যদি গোত্রভুক্ত রাজনীতি করি তাহলে রাজনীতি বেশিদূর এগোবে না।
তরুণদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আমরা নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারছি কী না? আমরা কি আমাদের পূর্বের প্রজন্মের কাছে গিয়ে ছয়দফা সম্পর্কে জানতে চাইছি? আমরা কতটুকু ইতিহাস জানি? নতুন প্রজম্মের কাছে আহ্বান জানাবো- আমরা যেন আমাদের পূর্বের প্রজন্মের কাছে গিয়ে রাজনীতি শিখি।’
নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।