চবিতে কুচক্রী মহল নিজ স্বার্থ চরিতার্থে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত

চবি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্বে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন-অগ্রগতির স্রোত রোধে মাননীয় উপাচার্য এবং প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্মানিত শিক্ষক, কর্মকর্তাদের নিয়ে দু’একটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটনাকারী চিহ্নিত একটি বিশেষ কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানোর জন্য ১৩ মে দুপুরে চবি বঙ্গবন্ধু চত্বরে বিশ^বিদ্যালয় পরিবারের সম্মানিত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশ এবং মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বার্থে যখন আঘাত লাগে তখনই স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল নিজ স্বার্থ চরিতার্থে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে। বর্তমান বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে উন্নয়নমূলক, শিক্ষামূখী বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগ এবং এর সফল বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজে করে যাচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন, শত বাধা বিপত্তি আর ষড়যন্ত্রকারীদের রক্তচক্ষু এমনকি হত্যার হুমকিকেও উপেক্ষা করে মাননীয় উপাচার্যের নেতৃত্বে বর্তমান প্রশাসন একাডেমিক, প্রশাসনিক এবং ভৌত অবকাঠামোর দৃশ্যমান উন্নয়নের ফলে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় পরিণত হয়েছে দেশের এক অনন্য বিশ^বিদ্যালয়ে। যেখানে গত চার বছর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির কোন চিহ্নই ছিলনা। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পরজাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি স্থাপন, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মারক ‘জয় বাংলা’ ভাস্কর্য এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারবর্গের স্মৃতিকে প্রজন্মের সন্তানদের কাছে চির অম্লান করে রাখার প্রয়াসে তাঁদের নামে বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। এছাড়া নিজস্ব অটোমেশন পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ, সাড়ে ছয় বছরের সেশন জট শুন্যের কোটায় নামিয়ে আনা, গবেষণা খাতে বরাদ্দবৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ই-লার্ণিং সেন্টার চালু, আইসিটি সেল ও বিশ^বিদ্যালয় ওয়েভপোর্টালের আধুনিকায়ন, মেডিকেল সেন্টারে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনসহ ‘স্টুডেন্ট কাউন্সেলিং সেন্টার’ স্থাপন, পরিবহন পুলে এসি বাসসহ ২১টি গাড়ি সংযোজন, নতুন নতুন অনুষদ-বিভাগ প্রতিষ্ঠা করাসহ বিশ^বিদ্যালয়ের প্রতিটি কর্ণারে উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান। বক্তারা আরও বলেন, একটি প্রশাসন দায়িত্বের প্রতি কতটুকু অবিচল আর বিশ^বিদ্যালয়ের প্রতি কতটুকু ভালবাসা থাকলে স্বার্থান্বেষী মহলের হত্যার হুমকীকে উপক্ষো করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছরের অরক্ষিত ও বেদখল হয়ে যাওয়া ৫০০ একর জায়গা উদ্ধার করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে সাহসী ভূমিকা রাখতে পারে তার একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত বর্তমান প্রশাসন। তাঁরা আরও বলেন, শতভাগ সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালিত বিশ^বিদ্যালয় বর্তমান প্রশাসনের একের পর এক ঈর্ষনীয় সাফল্যে অবৈধ, অনৈতিক, সুবিধাবাদী স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থে আঘাত লাগতেই পারে। সেই স্বার্থান্বেষী মহলই চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়কে সংকটে ফেলতে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করে তাদেরই নীলনকশা বাস্তবায়নে অশুভ-অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে বর্তমান প্রশাসন যতদিন দায়িত্বে থাকবে পেছনের দরজা দিয়ে স্বার্থ উদ্ধার কোনদিনই সম্ভব হবে না। তাঁরা বলেন, বিশ^বিদ্যালয় পরিবার এসকল ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ থাকবে। বক্তারা সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বিশ^বিদ্যালয় পরিবার ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ^বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পুনরায় দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ, চবি’র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এবং চবি কর্মচারী সমিতির সভাপতি জনাব মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং বিজ্ঞান অনুষদের উচ্চমান সহকারী জনাব সুমন মামুনের পরিচালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব কে এম নুর আহমদ, নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি জনাব মো. শামীম হাসান, হিসাব নিয়ামক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মো. ফরিদুল আলম চৌধুরী, চবি অফিসার সমিতির সভাপতি জনাব এ কে এম মাহফুজুল হক এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদ, চবি’র সাধারণ সম্পাদক জনাব মশিবুর রহমান। মানববন্ধন কর্মসূচিতে চবি পরিবারের সম্মানিত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।