নতুন দিগন্তে বইমেলা

নগরের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে একুশে বইমেলার আয়োজন এক নতুন দিগন্তের সূচনা করলো। আগামী বছর আরও সুন্দর ও দর্শক উপযোগী করে আয়োজনের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শনিবার (২ মার্চ) রাত ১০টায় পর্দা নামছে ২০দিনের এ বইমেলার।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সহায়তায় ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে এ বইমেলার আয়োজন করে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১১০টি প্রকাশকের স্টল ছিলো।

২৫ ফেব্রুয়ারি একদিন বৃষ্টির তাণ্ডবে বইমেলা জমে উঠতে না পারলেও, পরেরদিন থেকে যথারীতি ভিড় জমে মেলার বিভিন্ন বইয়ের স্টলে। বিক্রিও হয় প্রচুর বই। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, ২০ দিনে প্রায় ১৪ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। বই শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক স্টল আগে থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে। বইমেলায় প্রতিদিন ছিল আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বইমেলার বিভিন্ন স্টলে ঘুরে জানা গেছে, এবারে সবচেয়ে বেশি বই বিক্রি হয়েছে পেন্সিল প্রকাশনীর বই। তাদের ২০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। ঢাকার মতো আয়োজন হওয়ায় তারা সিটি করপোরেশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ওই প্রকাশনীর কর্মকর্তা ও লেখক সায়েম হোসেন চৌধুরী বলেন, একবারে ঢাকার বইমেলার মতোই মনে হয়েছে আমার। প্রতিদিন পাঠকদের উপস্থিতি ছিলো প্রচুর।

তিনি বলেন, তরুণ লেখকদের বই পাঠকরা বেশি কিনেছেন। ব্যবসাও ভালো হয়েছে। বইমেলায় তরুণ লেখকদের বইয়ের প্রতি পাঠকের আগ্রহ দেখে ভালো লেগেছে। আগামীতেও যাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এ ধরনের সুন্দর একটা আয়োজন করে সেই দাবিই থাকল।

অক্ষরবৃত্ত প্রকাশনীতে ৬ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। অক্ষরবৃত্তের প্রকাশক আনিস সুজন বলেন, প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি বেশি ছিলো। চট্টগ্রামে এ প্রথম এবারেই সবচেয়ে বেশি বই বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া প্রথমা প্রকাশনীতে ৯ লাখ টাকা ও বলাকা প্রকাশনীতে প্রায় তিন লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এরকম ১১০টি প্রকাশকের স্টলে প্রচুর বই বিক্রি হয়েছে বলে প্রকাশকরা জানিয়েছেন।

প্রথম প্রকাশনীর ইব্রাহিম তানভির বলেন, আমার কোনোভাবেই মনে হয়নি চট্টগ্রামের বইমেলা এটি। প্রতিদিন পাঠকের চাপে বই বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে মেলায় এসেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্র ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই আসা হয়েছে মেলায়। চট্টগ্রামের এবারের বইমেলাকে অন্যরকম মনে হয়েছে।

একুশে বইমেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু বলেন, ২০ দিনে প্রায় ১৪ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এত বই বিক্রি হবে সেটা আমরা চিন্তাও করিনি। আগামীতেও এ ধরনের বইমেলার আয়োজন করা হবে।