রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যার ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে

শফিউল আলম, রাউজান: রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে গত ১৩ জুন (শনিবার) দুপুরে প্রকাশ্যে দিবালোকে রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। কর্ণফুলী নদীর বালু রাঙ্গুনিয়া সীমানা বেতাগী এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে উত্তোলনে বাধা ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়ার যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে একাধিক সুত্র দাবী করছে।

কর্ণফুলী নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে আবাধে বালু উত্তোলন করায় এলাকার মানুষের বসতবাড়ী ফসলী জমি নদীতে বিলিন হয়ে যাওয়ায় রাঙ্গুনিয়ার সাধারন মানুষ কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য মানববন্দ্বন কর্মসুচি পালন করেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটি ও মাসিক সমন্বয় সভায় কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্দ্ব ঘোষনা করেন রাঙ্গুনিয়্ াআসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। কর্ণফুলী নদীর রাঙ্গুনিয়া অংশে বালু মহল ইজারা বন্দ্ব করে দেয়া হয়।

কর্ণফুলী নদীর রাঙ্গুনিয়া অংশে বালু উত্তোলন বন্ধ হলে ও কর্ণফুলী নদীর রাউজান অংশ বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলার ঘ্টা, লাম্বুর হাট, পাচখাইন, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের উভলং এলাকায় বালু উত্তোলন চলছে। রাউজানের খেলার ঘাট এলাকার সাথে রাঙ্গুনিয়া উপজেলাার বেতাগী এলাকা। রাঙ্গুনিয়া বেতাগী এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন করার সময়ে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী বাধাপ দেয়। রাউজানের বালু খোকো সিন্ডিকেটের সদস্যরা রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকা থেকে কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় প্রভাবশালী বালু খোকো সিন্ডিকেটের সদস্যরা যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে হত্যা করে বলে জানান এলাকার বাসিন্দ্বরা । যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকান্ডের পর গত ১৫ জুন সোমবার দিবাগত রাতে হত্য্কাান্ডের সাথে জড়িত সি,সি, টি,ভি ফুটেজ থেকে সংগ্রহ করা ছবি দেখে চিহ্নিত করা ৫ সন্ত্রাসী সহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা আরো ৮ জনকে আসামী করে রাউজান থানায় মামলা দায়ের করেন। নিহত যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী ভাই বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পিয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পুুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেয়তার করে বলে পুলিশ জানায়।

যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকান্ডের পর সমগ্র রাউজানের সাধারন মানুষের মধ্যে চরম আতংক সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিন রাউজানের নোয়াপাড়া পথের হাট, পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার উত্তর রাউজানের জমজমাট বাণ্যিজিক কেন্দ্র হলে ও যুবদল নেতা মাসুদুল হক হত্যাকান্ডের ঘটনার পর দুটি বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপস্থিতি কমে গেছে। গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগের সকারের পতনের পর থেকে রাউজানে খুন হয়েছে ২৫ জন। বালু মহল নিয়ন্ত্রন পাহাড় টিলা কাটা, কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা নিয়ন্ত্রন এলকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সব খুন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত পলাতক সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেফতার করতে আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।