শফিউল আলম, রাউজান: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুরে এক দিন আগে নিখোঁজ হওয়া এক ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
১৭ জুন (বুধবার) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়ুয়াপাড়া এলাকায় একটি ধানখেত থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।নিহত ব্যক্তির নাম স্বপন বড়ুয়া (৫২)। তিনি কদলপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কদলপুর বড়ুয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্পন বড়ুয়া পশ্চিম কদলপুর গৌরচন্দ্র যতীন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন। যে জায়গা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেখান থেকে তাঁর বাড়ি প্রায় ৩০০ মিটার দূরে ।পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্বপন বড়ুয়ার মুঠোফোনে একটি কল আসে। এরপর তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান, বাড়ির পাশের একটি দোকানে একজন তাঁকে ডাকছেন। এ কথা বলে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে যান। কিন্তু রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি।

১৭ জুন (বুধবার) সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ধানক্ষেতে তাঁর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্বপন বড়ুয়ার কপাল, নাক, হাত ও পিঠে রক্তাক্ত জখম রয়েছে।গৌরচন্দ্র যতীন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শাসন রক্ষিত বলেন, ‘স্বপন বড়ুয়া আমাদের বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন। তাঁকে সন্ধ্যায় ঘর থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছে। এরপর তাঁর লাশ পাওয়া গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানাই।’পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির শরীরের রক্তাক্ত জখম অন্য কারও আঘাত থেকে কিনা তা স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থলের পাশে একটি বিষের বোতল পাওয়া গেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, বিষপানের পর ধানখেতে ছটফট করতে গিয়েও তিনি রক্তাক্ত হতে পারেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে একটি টিউবওয়েল রয়েছে। সেখানে লেগেও হয়তো আঘাত পেয়েছেন তিনি।লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা রাউজান থানার উপপরিদর্শক মুহাম্মদ খোরশেদ বলেন, ‘শরীরে জখমের চিহ্ন পাওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে ধারণা করা হচ্ছে বিষপানের পর ছটফট করতে গিয়ে তাঁর শরীরে জখম হয়েছে। ঘর থেকে ডেকে নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।












