বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের কারণে সাধারণ মানুষ আজ অতিষ্ঠ। বাস ও টেম্পোস্ট্যান্ড দখল করে অবৈধভাবে চাঁদাবাজি, ফুটপাত দখল করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের জিম্মি করে রাখা এবং সরকারি দপ্তরে হামলা চালিয়ে নারী প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার মতো ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এসব কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।
তিনি রোববার (১৪ জুন) বাদ মাগরিব জামালখানস্থ নগর কার্যালয়ে ট্রেড ইউনিয়ন সাংগঠনিক পক্ষ ও ট্রেডভিত্তিক দাওয়াতী পক্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগরের থানা দায়িত্বশীল সম্মেলনে সভাপতির উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বৈঠক সঞ্চালনা করেন মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী।

এস এম লুৎফর রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে আইনশৃঙ্খলা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে যদি প্রভাবশালী গোষ্ঠী শক্তির অপব্যবহার করে জনগণের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে, তাহলে জনমনে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, জনগণ সবকিছু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সময়মতো তাদের মতামত ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করবে। তাই সময় থাকতে সংঘাত ও বিশৃঙ্খলার পথ পরিহার করে ইতিবাচক, গণমুখী ও দায়িত্বশীল রাজনীতির পথে ফিরে আসা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শুধু শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনই নয়, একটি নৈতিক, সেবামূলক ও আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সে জন্য সংগঠন সম্প্রসারণ, সাংগঠনিক মজবুতি অর্জন, দাওয়াতি কার্যক্রম জোরদার এবং তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা এবং কর্মক্ষেত্রে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করা প্রত্যেক দায়িত্বশীলের নৈতিক দায়িত্ব। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের দাবিতে সংগঠন ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকবে।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহানগর সহ-সভাপতি নজির হোসেন ও মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া, ফেডারেশনের মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদ উল্লাহ আদিল, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ হামিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স ম শামীম, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম এবং পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।












