ঈদের নামাজ আদায় শেষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নেমেছেন কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকিতে। আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রায় ৩ হাজার ২০০ পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা ‘সেবক’।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে নগরজুড়ে শুরু হওয়া পশু কোরবানির পরপরই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে প্রায় ৪০০ ভ্যান গাড়ি ও ৪১টি ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।
চসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্ম্মা জানান, ডাম্প ট্রাক, পে-লোডার, ভ্যানসহ মোট ৩৭৯টি যানবাহনের মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই জোনে ভাগ করা হয়েছে।
তিনি জানান, উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের ২২টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ফেলা হবে আরেফিন নগরের আবর্জনাগারে এবং পতেঙ্গা-বন্দর এলাকার ১৯টি ওয়ার্ডের বর্জ্য নেওয়া হবে হালিশহর আবর্জনাগারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো নগরী পরিষ্কার করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অলিগলি ও সড়ক থেকে কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহ করে গাড়িতে তোলা হচ্ছে। অনেক স্থানে ব্যক্তি উদ্যোগে পানি দিয়ে রক্ত পরিষ্কার এবং ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে পুরো কার্যক্রম।
বেলা ২টা থেকে পুরোদমে বর্জ্য অপসারণ শুরু হয়। কাজীর দেউড়ি বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু করে চসিক। ছয় ঘণ্টার মধ্যে পুরো নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হয়েছে। নগরবাসীকে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই এবং চসিক সরবরাহকৃত পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য ভরে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রাখার বিষয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বেলা ২টা থেকে ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে বর্জ্য অপসারণ শুরু হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করতে পারবে, তাদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।”
চামড়া ব্যবস্থাপনাকে কোরবানির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে মেয়র বলেন, “চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে ইতোমধ্যে বৈঠক করা হয়েছে। যারা চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে চামড়াগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়।”
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, মহানগর ও জেলায় এবার কোরবানির উপযোগী গবাদিপশুর সংখ্যা ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি। এর মধ্যে গরু ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, ছাগল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি এবং ভেড়া ৪১ হাজার ৪২৩টি। চলতি বছর চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি।












