আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি ঘটনায় অভিযুক্ত শাকের মাঝি আটক

শামসু উদ্দিন, টেকনাফ: আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের গভীর সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় অভিযুক্ত টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডার ডেইল এলাকার কবির আহমদ এর ছেলে শীর্ষ মানবপাচারকারী শাকের মিয়া ওরফে শাকের মাঝি (৪২) কে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকালে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডার ডেইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক শাকের মাঝি ওই এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং কবির আহমদের ছেলে।
এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এক ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, শাকের মাঝি টেকনাফের অন্যতম শীর্ষ মানবপাচারকারী। গত ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় মানবপাচারের মূল হোতা হিসেবে এলাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শীর্ষ মানব পাচারকারী দালাল হিসেবে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ওসি আরও জানান, আটক শাকের মাঝির বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মানবপাচার, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানসহ ১১টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয়রা জানান, আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা শাকের মাঝির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তারা তাকে চিহ্নিত মানবপাচারকারী দাবি করে তার সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং, টেকনাফ সদর ও বাহারছড়া ইউনিয়নে সক্রিয় রয়েছে একাধিক মানবপাচারকারী চক্র। এসব চক্রের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে বাংলাদেশি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৯ জন বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে উদ্ধার করে। তারা পানির ড্রাম ও কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরে প্রাণে বেঁচে ছিলেন। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়।
উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশি ও ৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশিরা হলেন কক্সবাজার সদরের সমিতিপাড়ার মো. হামিদ (৩৩), নুনিয়ারছড়ার মো. আকবর (৩২), চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মায়ানী খোনারপাড়ার মো. মহিউদ্দিন হৃদয় (৪২), টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের বড় ডেইলের মো. তোফাইল (২৭), হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লাতুরিঘোনার মো. সোহান উদ্দিন (৩২) এবং টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবির পাড়ার মো. সৈয়দ আলম (২৭)। এছাড়া উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা হলেন উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের মো. রফিকুল ইসলাম (২৪), রাহেলা বেগম (২৫) ও মো. ইমরান (১৭)।