শফিউল আলম, রাউজান: কবিতার ভাষায় ‘ঐ দেখা যায় তাল গাছ, ঐ আমাদের গাঁ, ঐ খানেতে বাস করে কানা বগির ছা।’ গাঁয়ে এখন বকের ছানা থাক বা না থাক, তালগাছগুলো কিন্তু কচি তালে ভরে গেছে। গ্রামগঞ্জ হয়ে তাল এখন শহরের বিভিন্ন আনাচে-কানাচে ও অলিগলিতে মেলে। তালশাঁস খাওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। মধুমাসে মৌসুমি অনেক ফল ফরমালিনে বিষে নীল হলেও তালের শাঁসে ফরমালিনের ছোঁয়া লাগেনি এখনো। তীব্র গরমে তালের কাঁচা শাঁস প্রতিদিনই চাহিদা বেড়েছে। এর প্রতিটি তাল বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা করে।

প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পেতে কাঁচা তালের কোনো জুড়ি নেই। তালের শাঁস খাওয়ার জন্য ছোট থেকে বৃদ্ধ বয়সীরাও তালের দোকানে ভিড় জমাচ্ছে। কেউ কেউ বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের জন্য।গতকাল ১২ মে মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশন, বাইন্যা পুকুর, ফকির হাট বাজার, বাইন্যার হাট, আমির হাট, রমজান আলী হাট, কুন্ডেশ^রী, গহিরা চৌমুহনী, নতুন হাট, ফতেহ নগর বাশডুয়া তল, খামখালী কুল, রোয়াইঙ্গা বিল, সেবাখোলা, জনিপাথর বাজার, নাতোয়ান বগিচা, কদলপুর সোমবাইজ্যার হাট, ঈশান ভট্টের হাট, পরির দিঘির পাড়, গৌরিমংকর হাট, উত্তর গুজর্,া কাগতিয়া হাট, ফটিকছাড় উপেজেলার তকির হাট, আজাদী বাজার, নানুপুর বাজার সহ কয়েকটি স্পটে তপ্ত রৌদে কাঁচা তালের শাঁস বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এছাড়া হাট-বাজার, স্কুল-কলেজেরর সামনে ও সড়কের বিভিন্ন জায়গায় এ তালের শাঁস বিক্রির চিত্র দেখা যায়।
কাঁচা তাল বিক্রেতা শহীদুল ইসলাম বলেন তালের শাঁস বিক্রি করার এখন ভরা মৌসুম চলছে। এসময় তালের শাঁস বেশী ভাগই স্কুল পুড়য়া ও কলেজ শিক্ষার্থীরা পছন্দ করেন। গরমে এর চাহিদা বেড়েছে ব্যাপক। ’শিক্ষার্থী রবিন, মিসবাহ সহ শিক্ষার্থীরা তপ্ত রৌদে তাল ক্রয় করে তালের শাস ভাগ করে খাচ্ছেন, শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘বর্তমান সময়টা মধুমাস। বিভিন্ন ফলে ভরপুর। তরমুজ, আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম ও জামরু ইত্যাদি ফলের চাহিদা থাকলেও বিশেষ নজর তালের শাঁসে। গরমে তালের শাঁস খেতে যেমন স্বসাদু তেমনি তৃষ্ণাও মেটে।’তালের শাঁস ক্রেতা রিক্সা চালক আবুল কালাম বলেন- ‘কাঁচা তালের শাঁস গরমে অনেক স্বস্তিদায়ক। কয়েকটা তালের শাঁস খেলে গরমের তীব্রতাও কমে যায়। তাই প্রতিদিন কমবেশী তালের শাঁস খাওয়া হয়। এছাড়া তীব্র গরমে মানুষের কাছে কাঁচা তালের শাঁস ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীদের বিক্রির পরিমাণও বাড়ছে।’হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক শিক্ষক ডা. নারায়ন চন্দ্র পাল বলেন, ‘তালের শাঁস শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল। গরমের দিনে তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ মানবদেহের পানি শূন্যতা দূর করে। এছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি.এ.বি কমপ্লেক্সসহ নানা ধরণের উপাদান রয়েছে। তালে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কচি তালের শাঁস রক্তশূন্যতা দূর করে। লিভার ভাল রাখে। এছাড়াও প্রাকৃতিক উপায়ে আমাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ রাউজানের বিভিন্ন এলাকার পুকুর দিঘির পাড়, পাহাড় টিলা, সড়কের পাশে তাল গাছ থেকে তাল গাছের মালিক থেকে মৌসুমী তাল ব্যবসায়ীরা তাল ক্রয় করে বাইজ্যা বাশ দিয়ে মই তৈয়ারী করে তাল গাছ থেকে তাল নামিয়ে টমটম সিএনজি অটোরিক্সা পিকআপ ভর্তি করে রাউজানের হাট বাজার, স্কুল কলেজ, মার্দ্রাসার সামনে বসে তাল ডিবক্রয় করছেন । এছাড়া রাউজানের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাল গাছ থেকে তাল ক্রয় করে নিয়ে গাছ থেকে তাল নামিয়ে পিকআপ, সিএনজি অটোরিক্সায় করে তাল রাঙ্গামাটি জেলা শহর ও চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রয় করছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ।












