আকাশ পাহাড় আর স্বচ্ছ জলের মেলবন্ধন, কর্ণফুলীর তীরেই অপরূপ “পাহাড়িকা পিকনিক স্পট”

মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই(রাঙামাটি): আকাশ, পাহাড় আর স্বচ্ছ জলের কর্ণফুলী নদীর তীরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত মনোরম পরিবেশে অবস্থিত কাপ্তাইয়ের শীলছড়ি “পাহাড়িকা পিকনিক স্পট”। স্বচক্ষে না দেখলে এই অপরূপ সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা। কর্ণফুলী নদী লাগোয়া এই পিকনিক স্পটটি দেখার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের সমাগম ঘটে। পিকনিক স্পটটি একবারেই ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ। বিশেষ করে কাপ্তাই চট্টগ্রাম সড়কের কাপ্তাই পুলিশ থানা সংলগ্ন এলাকায় এই পাহাড়িকা পিকনিক স্পটটির অবস্থান।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চট্টগ্রাম থেকে বন্ধুবান্ধব নিয়ে বেড়াতে আসা ‘ফোর এইচ গ্রুপ’ এর উপ প্রধান পরিচালক শহিদুল ইসলাম জানান, শহরের যান্ত্রিকতা ও কোলাহল এড়িয়ে মুক্ত পরিবেশে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য পাহাড়িকা পিকনিক স্পটে ছুটে এসেছি। এই পাহাড়িকা স্পটটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা একটি আদর্শ স্থান। স্পটের পাশেই বসলে নীল আকাশ, সবুজ পাহাড় ও স্বচ্ছ জলের কর্ণফুলী নদীর অপরূপ দৃশ্য সহজেই অবলোকন করা যায়।

এসময় সেখানে ঘুরতে আসা আরো কয়েকজন পর্যটক জানান, এই পাহাড়িকা পিকনিক স্পটের পরিচালক আমাদের বান্ধবী। তার সৌজন্যে আমরা একাধিক বার এই স্পটে ঘুরতে এসেছি। যত বারই আসি আমরা মুগ্ধ মনে নিজ গন্তব্যে ফিরে যায়। এই স্পটের সৌন্দর্য দেখতে বার বারই ছুটে আসতে ইচ্ছে হয়। এর সৌন্দর্য আমাদের বিমোহিত করে এবং বারবার ছুটে আসার হাতছানি দেয়।

পাহাড়িকা পিকনিক স্পটের পরিচালক সারোয়াত সিদ্দিকী সামা জানান, কাপ্তাইয়ের সুন্দর একটি মনোরম পরিবেশে এই পাহাড়িকা পিকনিক স্পটটি অবস্থিত। এখানে বিভিন্ন পর্যটকরা নিরাপদে অবস্থান করতে পারে। এই স্পটে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাও রয়েছে। তবে বর্তমানে এখানে রাত্রী যাপনের ব্যবস্থা নেই। ভবিষ্যতে রিসোর্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে এই স্পটটির পিছনে আমি নিজেই আর্থিক বিনিয়োগ করে যাচ্ছি। তবে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে যেমন পর্যটন খাতে সরকারি সহযোগিতা করা হয়, তেমনি আমরাও সরকারি সহায়তা পেলে এই স্পটটিকে আরো আধুনিক ও মনোরম পরিবেশে তৈরি করতে পারবো। এতে দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে।

প্রসঙ্গত, কাপ্তাই একটি পর্যটন শহর হিসেবে পরিচিত। দিনদিন এ অঞ্চলে পর্যটন শিল্প বিকাশমান। এই শিল্পের আরো প্রসার ঘটাতে বর্তমান সরকারের এগিয়ে আসা উচিৎ। এতে পর্যটন শিল্প বিকশিত হলে এলাকার মানুষের কর্মতৎপরতা এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে বলে স্থানীয়রা জানায়।