দক্ষিণ আমেরিকার ‘জাবুটিকাভা’ ফলের চাষ হচ্ছে কাপ্তাইয়ের রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে

মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই(রাঙামাটি): পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় চাষ উপযোগী দক্ষিণ আমেরিকার জাবুটিকাভা ফল প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে কাপ্তাইয়ের রাইখালী পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে। কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের গবেষণার ফলে বর্তমানে জাবুটিকাভা গাছ গুলোতে সুস্বাদু ফলটির ভালো ফলন হয়েছে। ফলটি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি খেতেও বেশ সুস্বাদু। মৌসুমের এমন একটা সময় আসে যখন কোন ফলের চাষাবাদ হয়না ঠিক তখনই এই ফলের উৎপাদন হয়ে থাকে।

ফলটি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, জাবুটিকাভা দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস অঞ্চলের আদিবাসী ফল। বর্তমানে এটি আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া ও পেরুতে ব্যাপক চাষ হচ্ছে। এই ফলটি একটি উচ্চমূল্য ও পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ ফল হিসেবে রাইখালী পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে গবেষণা করে ব্যাপক সফলতা পাওয়া গেছে। এই ফল সরাসরি গাছের কান্ড ও ডালে ধরে থাকে। দেখতে অনেকটা কালো আঙুর বা ছোট বরইয়ের মতো হলেও এর গঠন ও বৈশিষ্ট্য একেবারেই ভিন্ন। জাবুটিকাভা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুর উদ্ভিদ। বাংলাদেশের আবহাওয়া-বিশেষ করে পার্বত্যাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের জলবায়ু ও মাটি-এই ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। জাবুটিকাভা একটি উচ্চমূল্যের পুষ্টিকর ও ঔষধি গুণসম্পন্ন বিদেশি ফল, যা বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে সফলভাবে চাষযোগ্য। রাইখালী কেন্দ্রে বিগত ৬ বছরের গবেষণায় একটি সম্ভাবনাময় জাত হিসেবে এই ফলটি চিহ্নিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশের ফল উৎপাদন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া যখন ফলটি জাত হিসেবে অবমুক্ত করা হবে তখন পার্বত্যাঞ্চল সহ দেশের সকল পর্যায়ের কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এবিষয়ে কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহমুদুুল হাসান জানান, জাবুটিকাভার প্রতিটি গাছে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার ফল ধরে। প্রতিটি ফলের ওজন সাড়ে ৭ গ্রাম। একটি গাছে সাড়ে ৩৩ কেজি ফল পাওয়া যায়। এই গাছে তেমন রোগ-বালাইয়ের কোন আক্রমণ দেখা যায় না। কাঁচা অবস্থায় ফলটি গাঢ় সবুজ ও পাকলে চকচকে বেগুনি-কালো রং ধারণ করে। এই গাছের ফুল সাধারণত শীতের শেষে অর্থাৎ জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারিতে আসে। ফুল আসার ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ফল পাকে। সাধারণত মার্চ এবং এপ্রিল মাসে এই ফল সংগ্রহ করা যায়। এই ফলটি পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ। এই ফল ভিটামিন সি, আয়রন, জিংক ও মেঙ্গানিজ সমৃদ্ধ। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে, হৃদরোগ প্রতিরোধে, ফুসফুসের রোগে ইমিউনিটি বৃদ্ধিতে এই ফল বিশেষ ভূমিকা রাখে। অত্র কেন্দ্রে জাবুটিকাভা ফলটির চাষ আরো বৃদ্ধি করতে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
প্রসঙ্গত, পাহাড়ে চাষ উপযোগী ফসলের জাত এবং অন্যান্য কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করার লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলাধীন রাইখালী ইউনিয়নে প্রায় ১০০ একর জমিতে গড়ে ওঠে রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। বিভিন্ন ফসল নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম করে থাকে এই প্রতিষ্ঠানটি।