মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই(রাঙামাটি): কাপ্তাই সদর বরইছড়ি সহ সমগ্র উপজেলা এলাকায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তেল সরবরাহে বিপর্যয়ের কারণে বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকেই স্থানীয় ফিলিং স্টেশন গুলোতে মোটর সাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, পর্যটক এবং পেশাজীবী বাইক চালকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা সদর বরইছড়ির ‘আশা অয়েল লিমিটেডে’ সকাল থেকেই মোটর সাইকেলের উপচে পড়া ভিড় লেগেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথেই এই লাইন দীর্ঘ হয়ে প্রধান সড়কের একাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। কাপ্তাই একটি অন্যতম পর্যটন এলাকা হওয়ায় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা পর্যটকরা তেলের অভাবে মাঝপথে আটকে পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা চালকরা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম মোটর সাইকেল হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে স্থবিরতা বিরাজ করছে। জনৈক ভুক্তভোগী চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দিনে এনে দিনে খাই। তেলের জন্য সকাল থেকে বসে আছি, কাজ নেই। জরুরি কাজে যারা দূর্গম বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে চাচ্ছেন তাদেরও নিতে পারছিনা। তেল পাব কি না তাও জানি না।”
স্টেশনে মাত্রাতিরিক্ত ভিড় ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে কাপ্তাই থানা পুলিশের একটি টিমকে শুরু থেকেই তৎপর দেখা গেছে। সারিবদ্ধভাবে যানবাহন দাঁড় করানো এবং লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ছাড়াই যাতে তেল বিক্রয় কার্যক্রম চলে, সেজন্য পুলিশের এই তদারকিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সচেতন মহলের মতে, কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই একটি স্টেশনে ভিড় করায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকা অথবা সরবরাহ ব্যবস্থায় ধীরগতিকেই এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে জানায়, সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে ঠিক কখন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস মেলেনি। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা।












