চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ আয়োজনে ‘সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় চবি সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলামের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার এর প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার (ঐকমত্য গঠন) এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ চবি শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেনের বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত চবি শিক্ষার্থী শুভ হোসেন উপস্থিত ছিলেন ।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে গণভোটের সচেতনতার পক্ষে বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। তিনি বলেন, জুলাই সনদ শহীদদের রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছে। যেটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ মাথাছাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। শিক্ষিত মানুষদের মধ্যেও গণভোট বিষয়টি ক্লিয়ার না। গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। গণভোটে ‘হ্যা’ চিহ্ন দিলে আগামী দিনে কেউ ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে পারবে না। কেউ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাবে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে, মৌলিক অধিকার বৃদ্ধি পাবে, রাষ্ট্রপতি দুই কক্ষের সদস্যের গোপন ভোটে নির্বাচিত হতে পারবে। সংসদ সদস্য নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবে।
চবির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার তাঁর বক্তব্যে বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব অনেক বেশি। নির্বাচন ছাড়া বৈধ সরকার গঠন সম্ভব না। আগামী নির্বাচনে গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূণ। আর আগামীর নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষকে গণভোটের গুরুত্ব বুঝাতে হবে। তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরকে গণভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি আরও বলেন, আমাদের সামনে যে সুযোগ তৈরী হয়েছে তা, কাজে লাগাতে হবে। আমরা যদি এ সুযোগ কাজে লাগাতে না পারি তাহলে আমাদের খেসারত দিতে হবে।
সভায় চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও উপ উপাচার্য (প্রশাসন ) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ ও ছাত্রসংসদের নেতৃবৃন্দ সচেতনতার সাথে চাইলে নিজ পরিবোর থেকে শুরু করে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে গণভোটে উদ্ধুদ্ধ করতে পারবে ও গণভোটে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারবে। বিগত দিনে যেভাবে ভোটবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেই ভোটবিহীন নির্বাচন যাতে না হয় এবং শতভাগ অংশগ্রহণমূলক নিবাচন যাতে হয় তাই গ্রামে গ্রামে যেতে হবে। মানুষদেরকে সচেতন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা বার বার রক্ত দিয়েছি। ১৯৭১ সালে আামরা রক্ত দিয়েছি, ২০২৪ সালেও রক্ত দিয়েছি; কিন্তু আমরা স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারিনি। স্বাধীনতার সুফল পেতে হলে আমদের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে, সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।আগামী নির্বাচনে গণভোটের মাধ্যমে সুন্দর বাংলাদেশ সৃষ্টি হবে।
স্বাগত বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য প্রফেসর (প্রশাসন) ড. মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ সুগম করার জন্য জুলাই সনদ তৈরী করা হয়েছে। এসময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবে শহীদদের মাগফেরাত কামনা করেন।
আলোচনায় আরও অংশ নেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আতিয়ার রহমান, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, চিটাগং এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মনজুরুল কিবরীয়া, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর এস.এম নসরুল কদির, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) এর উপাচার্য প্রফেসর ড. ওবায়দুল করিম, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন, ইস্ট ডেলটা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান, ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটি কুমিল্লা এর উপাচার্য প্রফেসর ড. সুরুজিৎ সর্ববিদ্যা, চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম.এম. নুরুল আবছার ও ফেনী ইউনিভার্সিটি এর উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল কাশেম প্রমুখ।
ইউজিসির সদস্য ও মতবিনিময় সভার সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দকে সভায় উপস্থিত হওয়ায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। মতাবিনিময় সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, শিক্ষক প্রতিনিধি, ডিনবৃন্দ ও চাকসুর জিএসসহ অন্যান্য প্রতিনিধিবৃন্দসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেন চবি মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর ও ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা সহকারী পরিচালক জনাব তাহমিদা খানম। বিভিন্ন ধমগ্রন্থ পাঠ ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে সভা শুরু হয়। এসময় মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে চবি প্রক্টর প্রফেসর ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ও চাকসু পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী সার্বিক সহযোগিতা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে চবি প্রভোস্টবৃন্দ, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ প্রশাসকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।












