আবার চাঁদের পথে মানুষ, আর্টেমিস–২ মিশন প্রস্তুত: নাসা

মানবজাতি আবার চাঁদের কক্ষপথে পা রাখার অপেক্ষায়। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ এর পর ৫৪ বছর ধরে চাঁদে মানুষের পদচিহ্ন দেখা যায়নি। এবার নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে এই দীর্ঘ বিরতির পর চাঁদের কক্ষপথে আবার যাত্রা করা হবে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ শুরু হতে যাওয়া ১০ দিনের এই অভিযানেই চারজন নভোচারী চাঁদকে ঘিরে মহাকাশে উড়বেন এবং মানবজাতির জন্য নতুন ইতিহাস গড়বেন।

এতে নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন চাঁদের কাছ দিয়ে ৯,২৬০ কিলোমিটার (৫,৭৫০ মাইল) ভ্রমণ করবেন। উৎক্ষেপণের প্রথম ধাপটি হবে ১৭ জানুয়ারি। নাসার বিশাল স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটটি ভেহিকেল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং (ভ্যাব) থেকে লঞ্চপ্যাড পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। এই জন্য ব্যবহার করা হবে বিশ্বের সবচেয়ে ভারী ক্রলার-ট্রান্সপোর্টার, যা প্রায় ১২ ঘণ্টায় ৬.৮ কিলোমিটার (৪.২ মাইল) পথ অতিক্রম করবে।

এটি প্রায় ৬০টি স্ট্যাচু অফ লিবার্টি (প্লিন্থ ছাড়া) অথবা ৮০টি নীল তিমির সমান ওজন বহন করতে সক্ষম।
(এসএলএস) রকেটটি আকারে বিশাল; ৯৮.১ মিটার (৩২২ ফুট) লম্বা এবং এতে রয়েছে সবচেয়ে বড় সলিড প্রোপেল্যান্ট বুস্টার। রকেট ও ওরিয়ন মহাকাশযান উৎক্ষেপণের আগে একাধিক পরীক্ষা এবং রিহার্সাল সম্পন্ন করা হবে, যাতে সবকিছু নিরাপদ থাকে।

আর্টেমিস-২ চাঁদে অবতরণ করবে না, তবে চাঁদের কক্ষপথে ঘুরবে।

মিশনের জন্য নাসা তিনটি উৎক্ষেপণ উইন্ডো রেখেছে—ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল। সঠিক তারিখ নির্ভর করবে আবহাওয়া, পরীক্ষা ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর। এই মিশন আর্টেমিস প্রোগ্রামের প্রথম ক্রু মিশন এবং এটি বেশ কিছু রেকর্ডও ভাঙবে।
সূত্র: আইএফএল সাইন্স