শফিউল আলম, রাউজান ঃ রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলায় বাড়ছে আলুর আবাদ। একটি হিমাগারের অভাবে ন্যায্য দামের দুশ্চিন্তায় রয়েছে কৃষকরা। আলুর দামের বর্তমান ঊর্ধ্বগতি দেখে ফটিকছড়িতে আলু চাষে আরো বেশি আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের। কৃষকদের মতে, আলুর উৎপাদন মৌসুমে আলুর দাম থাকে না। যা যেকোন শস্যের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। হিমাগার থাকলে উৎপাদিত আলু সংরক্ষণে রেখে পরবর্তীতে অসময়ে বিক্রি করে লাভবান হতো চাষিরা। রাউজান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুস্ক মৌসুমে ২শত ৩৮ হেক্টর ফসলী জমিতে আলু ক্ষেতের চাষাবাদ করেন কৃষকরা । রাউজান উপজেলার পাশপাশি ফটিকছড়ি দেশের অন্যতম একটি বড় উপজেলা। ফটিকছড়ি উপজেলায় ২৮হাজার ১শত ৮৭ হেক্টর চাষযোগ্য কৃষি জমি রয়েছে। এতদঅঞ্চলের মাটি সবজি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সার্বিক বিবেচনায় উপজেলাতে একটি হিমাগার খুবই প্রয়োজন। এতে করে ফটিকছড়িতে আলুর উৎপাদন বহুগুণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা জাতীয় পর্যায়ে আলুর দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসাবে কাজ করবে। সমগ্র চট্টগ্রামে সমবায় এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন হাটহাজারী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও সাতকানীয়া উপজেলা মিলে মাত্র ৪টি হিমাগার রয়েছে।

সূত্রমতে, ফটিকছড়িতে আনুমানিক আড়াই হাজার আলু চাষি রয়েছেন। চলতি বছর ফটিকছড়ি উপজেলাতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩শত ৮২ হেক্টর জমি। হিমাগারের ব্যবস্থা থাকলে এই পরিসংখ্যান অনেকগুণ বাড়ত। গতবছর আলুর লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৩শত ৭০ হেক্টর জমি, অর্জিত হয়েছিলে ৩শত ৮০ হেক্টর। পরিসংখ্যানে দেখা যায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্জন বেশি। অর্থাৎ আলু চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। এদিকে বছরের পর বছর রাউজান – ফটিকছড়ির আলু চাষিরা পার্শ্ববর্তী হাটহাজারী উপজেলাতে অবস্থিত সমবায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করছেন। এতে তাদের অতিরিক্ত যাতায়ত খরচসহ বিভিন্ন ঝামেলা পোহাতে হয়।জানা গেছে, ফটিকছড়ির চাষিরা হিমাগারে শুধু বীজের আলুই সংরক্ষণে রাখছেন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়। উপজেলার আলু চাষিদের মতে, ফটিকছড়িতে হিমাগার থাকলে অবশ্যই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখে আলু চাষাবাদ হতো এবং বীজের পাশাপাশি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আলু সংরক্ষণ করা হতো। রাউজানের হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিন ক্ষিরাম এলাকার কৃষক সাহেব মিয়া বলেন ফসলী জমিতে আলু ক্ষেতের চাষাবাদ করে উৎপাদিত আলু হিমাগার না থাকায় সংরক্ষন করা সম্ভব হয়না । হাটহাজারীতে হিমাগারে নিয়ে সংরক্ষন করা পরিবহন খরচ হয় বেশী । ফটিকছড়ি রোসাংগিরী ইউনিয়নের ক্ষুদ্র আলো চাষি মুহাম্মদ ইউছুফ জানান, আমি অল্প সংখ্যক জমিতে আলু চাষ করে হাটহাজারী সমবায় হিমাগারে বীজের আলু সংরক্ষণ করেছি। ফটিকছড়িতে হিমাগার খুবই প্রয়োজন। হিমাগার থাকলে আমি আলু চাষে আরো বেশি বিনিয়োগ করতাম। আমার মতো এই চাষে অনেকেই এগিয়ে আসত।
নারায়ণহাটের কবীর উদ্দিন জানান, আলুতো এখন সোনার হরিণ। সংরক্ষণের অভাবে আলুর আশাতীত ফলন করেও লাভের মুখ দেখছি না। ফটিকছড়িতে পাম্প (হিমাগার) থাকলে আলু চাষিরা লাভবান হবে, আলু চাষে আগ্রহী হবে।
রাউজান উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুম কবির জানান, সব্জির জন্য রাউজান ও ফটিকছড়ির মাটি খুবই উর্বর। হিমাগার দিতে কেন এতো অনাগ্রহ। রাউজান ফটিকছড়িতে শুধু হিমাগার নয়, কৃষি পণ্য প্রসেসিং, মূল্য সংযোজন এবং রপ্তানির ছোট ছোট খাত তৈরি হওয়া দরকার।












