কাপ্তাইয়ে পরিত্যক্ত জমিতে বসানো সোলার প্যানেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফলতা

মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু,কাপ্তাই (রাঙামাটি): কাপ্তাইয়ের পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিত্যক্ত জমিতে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফলতা এসেছে। যা দেশের নবায়ন যোগ্য জ্বালানি প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কেন্দ্রটি স্থাপনের পর থেকে অদ্যাবদি ৬ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। সৌরশক্তির মাধ্যমে আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলাধীন কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিত্যক্ত ২২ একর জমির মধ্যে সাড়ে ১৯ একর জায়গায় ২০১৯ সালে স্থাপন করা হয় ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই সোলার পাওয়ার প্লান্ট। এটি ছিল দেশের প্রথম অন গ্রিড সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র। যেখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। এবার সেই ২২ একর জমির অবশিষ্ট আড়াই একর জায়গায় সোলারের মাধ্যমে আরও ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্র জানায়, প্রতিদিন সূর্যের আলোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে। গ্রীষ্মকালে সূর্যের রোদের তেজ বেশি থাকলে উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন গড়ে ৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় কেন্দ্রটিতে। এটি স্থাপনের পর থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হয়েছে। যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা। পুনরায় ব্যবহার যোগ্য শক্তির কারণে সোলারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দিনদিন আগ্রহ বাড়ছে।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, বাংলাদেশে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে প্রকৃতি নির্ভর কাপ্তাই হ্রদের পানি মৌসুম ভেদে বাড়া-কমার কারণে এর উপর নির্ভর করে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রাখতে হয়। কিন্তু সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনে এমন নির্ভরতা থাকেনা। তাই এর জনপ্রিয়তা দিনদিন বাড়ছে। আগামীতে এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিধি আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয় এই সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি) কর্তৃক নির্মিত, হয়। যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে।