স্বাগতম নতুন বছর ২০২৬

আনন্দ-বেদনা, পাওয়া-না পাওয়ার কথামালা নিয়ে শুরু হলো খ্রিষ্টীয় নতুন বছর-২০২৬। সুন্দর এক আগামীর প্রত্যাশায় দেশের মানুষ। বিদায় নিলো রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক ঘটনাবহুল বছর। ছিলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে চড়াই-উতরাইসহ নানা চ্যালেঞ্জ। তবে সকল অপ্রাপ্তির পরিসমাপ্তি ঘটুক নতুন বছরে এমন চাওয়া সকলের।

নতুন বছর মানেই হিসেব মেলানো—কী পেলাম, কী পেলাম না। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে বছর আসে, বছর যায়। কিন্তু আমাদের জীবনে, সমাজে, অর্থনীতিতে—আসলে কী বদলায়?

পুরানো বছরের আঙিনায় কেউ পেয়েছে নতুনের ঘ্রাণ, কারো বুকে বেজেছে বিচ্ছেদের সুর। কারো ঘরে এসেছে নতুন সদস্য, কেউ আবার হারিয়েছেন প্রিয়জন। কোনো স্বপ্ন ডানা মেলে আকাশে উড়েছে, কোনোটা আবার রয়ে গেছে অধরা।

স্মৃতির পাতায় বছরজুড়ে ঘটে যাওয়া প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির এই দোলাচলেই শেষ হলো একটি অধ্যায়, আর শুরু হলো আগামীর দিন বদলানোর নীরব প্রতীক্ষা। ২০২৬ সাল যেন একটি উৎসবের বছর। বছরের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের জাতীয় নির্বাচন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, আর বছরের মাঝে ফুটবল বিশ্বকাপ—সব মিলিয়ে ব্যস্ত একটি সময় পার করবে বিশ্ব।

তবে একদিকে ডিজিটাল বিপ্লব হলেও অন্যদিকে আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য। একদিকে উন্নয়নের জোয়ার, অন্যদিকে বৈষম্যের পাহাড়।

গাণিতিক প্রবৃদ্ধি দৃশ্যমান হলেও সেই সমৃদ্ধির ছায়া কি প্রান্তিক মানুষের ঘরে পৌঁছেছে? আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগেও যদি শিক্ষা, স্বাস্থ্য আর কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকে, তবে বুঝতে হবে উন্নয়নের এই আলো কেবল একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিকে আলোকিত করছে পুরো সমাজকে নয়।

আবার নারীদের জন্য অনেক সুযোগ এসেছে ঠিকই তবে ঘরোয়া চাপ, নিরাপত্তার অভাব—এগুলো কমেছে কি?

সব ছাপিয়ে পুরানো খেরোখাতা বন্ধ হলো, ফের পথ চলার নতুন কৌশলে। সবটুকু পাওয়া হয়নি ঠিকই তবে প্রতিটি না-পাওয়া শিখিয়ে গেছে নতুন কোনো জীবনবোধ।