শফিউল আলম, রাউজান ঃ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সবুজে ঘেরা পাহাড় টিলাগুলো গু আজ কাদঁছে নীরবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত এই পাহাড়ি জনপদে দিনের পর দিন নির্বিচারে পাহাড় টিলা কেটে ফেলা হচ্ছে।
পাহাড় টিলা কাটা হলে ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরবতা পালন করে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাহাড় টিলা কেটে মাটি ও বালি বিক্রি করে আসছে। রাতের আঁধারে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাহাড় টিলা কাটা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও কৃষি ব্যবস্থা। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পরিত্যক্ত মাসুদ আলমের ইটভাটার পাশ থেকে কৃষিজমি কাটা হচ্ছে। একইভাবে আইলীখীল হলদিয়া বিল, কাজীপাড়া বিল, রাউজান ইউনিয়নের পুর্ব রাউজান, জয়নগর বড়ুয়া পাড়া, ভোমর ঢালা, চিকন ছড়া, চেহেরী খীল, মুখছড়ি, এলাকায় বিশাল পাহাড় কেটে মাটি ও বালি উত্তোলন করা হচ্ছে পৌর এলাকার জঙ্গল রাউজান, ডাবুয়া ইউনিয়নের মেলুয়া, রাধামাধবপুর, হলদিয়া ইউনিয়নের সিংহরিয়া, উত্তর আইলী খীল, জানিপাথর, গলাচিপা, বৃকবানুপুর, বৃন্দাবনপুর, বানারস, এয়াসিন নগর, হলদিয়া রাবার বাগান, বৃন্দ্বাবনপুর, বৃকবানুপুর, এয়াসিন নগর, শিরনী বটতল ও কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ জয়নগর, ভোমর পাড়া. কমলার টিলা, শমশের পাড়া, কালকাতরপাড়া, ।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু পাহাড় টিলা নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে ফসলি জমিও। এতে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে। মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাতে মাটি পরিবহনের সময় প্রতি ট্রাক থেকে হাইওয়ে পুলিশকে টাকা দেওয়া হয়। সব ম্যানেজ করেই কাজ চলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটিখেকো চক্র পুলিশ-প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে বেপরোয়াভাবে রাতের আঁধারে খননযন্ত্র দিয়ে বালি ও মাটি কাটলেও প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনকভাবে নীরব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে রাউজানসহ আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন,কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে। পাহাড় রক্ষায় নিয়মিত অভিযান, পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এবিষয়ে রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অংছিং মারমা বলেন,“পাহাড় কাটা বন্ধ এবং কৃষিজমি রক্ষায় একটি বিশেষ টিম গঠন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”












