ভোট দেওয়ার অধিকার আমাদের সাংবিধানিক অধিকার

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নব্বই’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন হয়েছে ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য। গত ১৫ বছর ভোটের অধিকার না থাকার কারণে যারা মেম্বার হওয়ার যোগ্য নয় তারা এমপি হয়ে গেছে।
ভোটের অধিকার না থাকার কারণে ভূমিদস্যুরা এমপি হয়ে গেছে। মানবপাচারকারীরা এমপি হয়ে গেছে।
ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এমপি হয়ে গেছে, মন্ত্রী হয়ে গেছে। ভোট দেওয়ার অধিকার আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কর্ণফুলী নদীতে বে ওয়ান ক্রুজ শিপে নগরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত চসিকের মিলনমেলায় মেয়র এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি ২০২১ সালের ট্রাইবুনালের মামলায় জিতে মেয়র হয়েছি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অংশ হিসেবে। আমি আপনাদের বলতে চাই, যেদিন আমার মেয়াদ শেষ হবে আমি আর সাড়ে তিন বছরের জন্য আবেদন করবো না। আমি ভোটের অধিকার চাইবো এবং ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে আমি আমার জনপ্রিয়তা কতটুক আছে সেটা আমি যাচাই করবো ইনশাআল্লাহ। এটা আমি আজকে ঘোষণা দিতে চাই সবার সামনে। অনেকে আমাকে বলছে আপনার তো পাঁচ বছর, যেহেতু গত মেয়রের বৈধতা নেই। আপনি কেন খামাখা সাড়ে তিন বছরে চলে যাবেন? আপনি আবার আবেদন করেন। আপনি পেয়ে যাবেন। আমি বলেছি না।

এই ভোটের অধিকারের জন্য আমরা আন্দোলন করেছি। এই ভোটের অধিকার অবশ্যই সবার থাকা উচিত। তারা নিশ্চিন্তে যাতে ভোট সেন্টারে গিয়ে এই ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। আমাকে যদি আবারো মেয়র হিসেবে পছন্দ হয় আপনারা ভোট দেবেন। আর যদি আপনারা মনে করেন আমি যোগ্য নই প্রয়োজনে আমাকে আপনারা ভোট দেবেন না। আমি আবার ওই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কর্মী হিসেবে আপনাদের পাশে থাকবো। আন্দোলন সংগ্রামে থাকবো। কোনো ভয় আমার নেই। জনগণকে আমরা বিশ্বাস করেছি, জনগণের জন্য আমি রাজনীতি করেছি। আমরা তাই ভোটের অধিকার চাই। আমরা মানুষের মৌলিক অধিকার চাই। কথা বলার স্বাধীনতা চাই।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মেয়র বলেন, আমরা আইনের শাসন চাই। মা বোনের ইজ্জতের নিরাপত্তা চাই। ধর্ষণ যাতে মহামারি আকার ধারণ না করে সে ব্যাপারে শক্ত ভূমিকা নিতে হবে। আপনারা দেখেছেন আমি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়ার পরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি যেটা ছিল সেটা স্থিতিশীল রাখতে বাজারে বাজারে মনিটরিং করেছি। এই শহরের নিরাপত্তার জন্য আমি কাজ করেছি। শুধু নালা, নর্দমা, খালবিল পরিষ্কার নয় আমাদের এই শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিতে হবে।

তিনি বলেন, গত পাঁচই আগস্টের পর থেকে আপনারা দেখেছেন আমরা মঠ-মন্দিরে পাহারা দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় পাহারা দিয়েছে। একটা হত্যাকাণ্ড অথবা কাউকে মারধর করা হয়নি। তবে, চট্টগ্রামে আলিফ হত্যাকাণ্ড কারা ঘটিয়েছে আপনারা জানেন। সেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার কিছু হয়েছে, বাকিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। সবাইকে গ্রেপ্তারের আওতায় আনতে হবে। এরপরেও এই মুহূর্তে অনেকেই শহরকে অনিরাপদ করার চেষ্টা করছে। আমি স্পষ্ট বলতে চাই যারা শহরকে অনিরাপদ করে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতি করতে চায়, তাদের আমি মেয়র হিসেবে বলতে চাই, এই শহর তোমাদের না, এই শহর আমাদের। আমরা নিরাপত্তা চাই। নিরাপদে জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে সে ব্যাপারে আমি সজাগ আছি। সন্ত্রাসী কারা আমরা জানি। কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাস্তানি চলবে না এই শহরে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। আমরা এই শহরকে একটা সুন্দর শহরে পরিণত করতে চাই।

মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম সেনানিবাসের জিওসি, নৌবাহিনীর এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব, জেলা প্রশাসক, সিডিএ চেয়ারম্যান, ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী রবি চৌধুরী, জি বাংলার মীরাক্কেল খ্যাত স্টান্ডআপ কমেডিয়ান কমর উদ্দিন আরমান প্রমুখ।