বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ পতিত স্বৈরাচারের সুবিধাভোগী গুম, খুন, আয়নাঘরের করিগরদের বিচার কার্যক্রম যখন গতি পাচ্ছিল ঠিক তখনই চট্টগ্রামের ইপিজেড, সিলেট ও ঢাকা বিমানবন্দরসহ সারাদেশে অগ্নিসংযোগ, চোরাগুপ্তা হামলাসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতা স্থগিত করা হলেও নামে-বেনামে তারা সক্রিয় এবং তাদের শরিক দল জাপাসহ ১৪ দলের অপতৎপরতাও চলছে। নানাভাবে গোপনে ও প্রকাশ্যে হুমকি সৃষ্টি করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটিয়ে তারা মূলত নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রই করে যাচ্ছে।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ২ টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী কার্যালয়ে মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ ও ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারিয়েটদের নিয়ে এক সমন্বয় বৈঠকে সভাপতির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টির নেতারা বিভিন্ন টকশোতে অংশগ্রহণ করে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেয়ার সাহস কিভাবে পাচ্ছে? সাইনবোর্ড বদলিয়ে স্বৈরাচারের দোসর সন্ত্রাসীরা মূলত একটি বড় দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে ছিনতাই, মাদক, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, খুন-খারাবিসহ বিভিন্ন অপরাধী গ্যাং কালচার চালু করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়ে নির্বাচন বানচাল করতে চায়। চট্টগ্রামের বাকলিয়া এক্সেস রোড, চালিতাতলি, জেলা পরিষদ মার্কেটের নিকটবর্তী স্পটে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র-গুলির মহড়ায় চট্টগ্রামবাসী উদ্বিগ্ন। ঢাকা ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্পটে খুন-খারাবি অব্যাহত রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ এখনো সরকার সৃষ্টি করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ষড়যন্ত্রের অন্যতম কেন্দ্র পতিত স্বৈরাচারের এক মন্ত্রীর বাসায় অভিযান পরিচালনাসহ সিএমপির বিভিন্নমুখী পদক্ষেপে চট্টগ্রামবাসী কিছুটা আশাবাদী হলেও এখনো জনমনে পুরোপুরি স্বস্তি আসেনি। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরো জোরদার করতে হবে।
উক্ত বৈঠকে আরও বক্তব্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম ফজলুল হক, ডা. সিদ্দিকুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, প্রফেসর মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসেন, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, মুহাম্মদ ইসমাঈল,
ছাত্রনেতা রাজিবুল ইসলাম, বাহা উদ্দিন, শহিদুল মুরসালিন, তানভীর মোস্তফা, খালেদ সাইফুল্লাহ, গোলাম রব্বানী, ফাহিম উদ্দিন, আব্দুর রহিম আল মামুন, শাহনেওয়াজ, জাহিদুল আলম জয়, সাব্বির হোসাইন সাকিব, আতিকুর রহমান সাঈদ, মিজবাহ উদ্দিন, ফানাফিল্লাহ হক জিহাদী, গোলাম মোস্তাফা আমজাদ হোসেন, মুহাম্মদ ইয়াছিন, আহমেদ রিদোয়ান ফয়সাল প্রমুখ।
বৈঠকে সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম, সাংগঠনিক সমন্বয়, প্রচার ও গণসংযোগ জোরদারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।











