মানুষ নির্বাচন চায়, ভোট দিতে চায়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ দেশের মানুষ নির্বাচন চায়, ভোট দিতে চায়। আমরা ভোটের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিয়েছি আমাদের দলকেও। সবাই দাঁড়াবে, সবাই কাজ করবে। জনগণ যাকে বেছে নিবে, সেটাই।
বুধবার বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভার মধ্য দিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি হজরত শাহজালাল ও শাহপরানের (র.) মাজার জিয়ারত করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আছেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা যখন উন্নয়নের কাজ করছি, তখন তারা (বিএনপি) আগুন দিয়ে মানুষ পোড়াচ্ছে। কোনো মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব থাকলে এভাবে আগুন দিয়ে মা-শিশুকে হত্যা করা হয় না। মা তার শিশুকে বুকে জড়িয়ে ধরে আছে। কিন্তু মা-শিশু কয়লা হয়ে গেছে।

তারা আগুন দিয়ে রেল, বাস পোড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালেও এভাবে আগুন দিয়ে অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করে তারা। নির্বাচন ঠেকাতে গিয়ে ৫৮২টি স্কুল, ৭০টা সরকারি অফিস, ৬টি ভূমি অফিস, ৩ হাজার ২৫২টি গাড়ি পুড়িয়ে ও ভাঙচুর করে। তারা মানুষকে পুড়িয়ে কয়লা করে ফেলে। ২৯টি রেলগাড়ি পুড়িয়ে তিন হাজারের মতো মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। ৫০০ মানুষকে হত্যা করে। এখনো তারা অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করেছে। অগ্নি সন্ত্রাস করে তারা নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। ২০১৪ সালে মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে। আমরা সরকারে এসেছি। ২০১৮ সালেও নির্বাচনে এসেও নমিনেশন বাণিজ্য শুরু করে। তাদের নির্বাচন শেষ। দোষ কার- দোষতো তাদের।

তিনি বলেন, আগামী ৭ই জানুয়ারির নির্বাচন উপলক্ষে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। এই সিলেট অলি-আউলিয়ার দেশ। এ দেশ থেকেই আমি আমার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করছি। ১৯৮১ সালে এ দেশে ফিরে এ সিলেট থেকেই আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে সভা শুরু করেছিলাম। সে সময় মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ সে সভায় উপস্থিত ছিলেন। এখানে এসেছিলাম একটি প্রত্যয় ও স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য। সে স্বপ্নটা হলো- দুঃখী বাংলার দুঃখী বাঙালির মুখে হাসি ফোটানো। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের মানুষকে দারিদ্রমুক্ত করে উন্নত জীবন দেবেন- সেটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ পরবর্তী দেশে ফিরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সকলের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও অর্থনীতিকে ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি তুলে এনেছিলেন। সময় পেয়েছিলেন মাত্র ৩ বছর ৭ মাস ৩ দিন। এর মধ্য দিয়ে বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে স্বল্প উন্নত দেশে উন্নীত করেছিলেন। দেশের জনগণ তখন একটি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিল। কিন্তু সে সময়ে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তারপর বুকভরা বেদনা নিয়ে যেদিন আমি বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলাম, সেদিনই আমি ঘোষণা করেছিলাম যে- এ বাংলাদেশের মানুষই আমার পরিবার। তাদের জন্য আমি কাজ করবো। সেই লক্ষ্য নিয়েই পথে নেমেছি। বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে জাতির পিতার স্বপ্ন অনুযায়ী বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দিতে সক্ষম হয়েছি। সেটি সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশের মানুষ নৌকায় মার্কায় ভোট দিয়ে বারবার আমাদের নির্বাচিত করেছিল বলেই।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যেভাবে জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু জাতির পিতাকে হত্যা করে, সংবিধান ও সামরিক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল তারা কখনো গণমানুষের দিকে তাকায়নি। মানুষের কল্যাণ করেনি। লুটপাট ও জনগণের ভোট চুরিই ছিল তাদের কাজ। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তারা কোনো কাজ করেনি। এটাই ছিল দুর্ভাগ্যের বিষয়। সেই কাজ করলে অনেক আগেই বাংলাদেশ উন্নত হতে পারতো। তারা এসেছিল ক্ষমতাকে ভোগ করতে।

তিনি বলেন, ২১ বছর পর সরকার গঠনের সুযোগ পাই। তখন থেকে চেষ্টা করেছি, এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। কিন্তু বার বার চক্রান্ত হয়েছে। পাঁচটা বছর ক্ষমতায় ছিলাম- বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছিলাম, সাক্ষরতার হার বেড়েছিল, ৪০ হাজার মেট্রিকটন খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে ২৬ হাজার মেট্রিকটন খাদ্য মজুদ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এরপর ২০০১ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলাম। কিন্তু সে সময় আমাদেরকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হয়নি। কেন দিল না। বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক গ্যাস। ওই আমেরিকা প্রস্তাব করল গ্যাস বিক্রি করতে হবে। কারণ আমেরিকার কোম্পানি এখানে গ্যাস উত্তোলন করে। আমি বলেছিলাম আমি গ্যাস বেচবো না। এই গ্যাস আমাদের জনগণের, এই গ্যাস জনগণের কল্যাণে ব্যবহার হবে। জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করে যদি ৫০ বছরের রিজার্ভ রেখে অতিরিক্ত থাকে তাহলে বেচবো। তারা খুব নাখোশ হলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন আমাকে ক্ষমতায় আসতে দেবে না। তা ছাড়া আমাদের দেশেরও কিছু লোক ছিল।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় এলো বিএনপি-জামায়াত জোট। যে বিএনপি ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের ভোট চুরি করেছিল। ভোট চুরির অপরাধে এ দেশের মানুষ আন্দোলন করে ওই খালেদা জিয়াকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। সেই ক্ষমতাচ্যুত, ভোট চোর, জনগণের সম্পদ চোর বিএনপিকে ক্ষমতায় বসালো ভোট কারচুপির মাধ্যমে। গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়েছিল খালেদা জিয়া। সে ক্ষমতায় গেলে গ্যাস বেচবে। সেজন্য তার পিঠে বাহবা দিয়ে ক্ষমতায় বসালো। তার রেজাল্ট কী? জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, দুঃশাসন।