পিছিয়ে পড়েও হাইতিকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে নকআউটে মরক্কো

আটলান্টা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক অবিশ্বাস্য ফুটবল মহাকাব্য লিখল মরক্কো। ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দমে না গিয়ে প্রবল প্রতাপে ফিরে এলো আটলাস লায়নরা। প্রথমার্ধের নাটকীয় লড়াইয়ের পর দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

যদিও ৭ পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানের বিচারে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের তকমাটা ছিনিয়ে নিতে পারেনি হাকিমিরা, কারণ একই পয়েন্ট ও ভালো গোল ব্যবধানের সুবাদে শীর্ষে থেকেছে ব্রাজিল।

ম্যাচের শুরুটা ছিল হাইতির জন্য স্বপ্নের মতো। ১০ মিনিটে জঁ-কেভিন দুভের্নের নিখুঁত পাস থেকে লেনি জোসেফের বুদ্ধিদীপ্ত শট গোলরক্ষক বোনুর গায়ে লেগে জালে জড়ালে গোল পায় হাইতি। দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে গোল পাওয়ার উল্লাসে মাতে ক্যারিবীয় দেশটি।

৩৯ মিনিটে আশরাফ হাকিমি সমতা ফেরালেও, ৪৩ মিনিটে উইলসন ইসিডরের দুর্দান্ত বুলেট গতির শট মরক্কোকে আবারও পিছিয়ে দেয়। তবে প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে ইসমাইল সাইবারির গোলটি ছিল ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।

বিরতির পর মরক্কো ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দল। ৬৫ শতাংশ বলের দখল রেখে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখে তারা। ১৯টি শটের মধ্যে ১২টিই লক্ষ্য বরাবর রেখে হাইতির রক্ষণভাগের পরীক্ষা নেয় আটলাস লায়নরা। ৭৮ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় সুফিয়ান রহিমি গোল করে দলকে প্রথমবারের মতো এগিয়ে দেন।

এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে গেসিম ইয়াসিন লক্ষ্যভেদ করলে মরক্কোর জয় নিশ্চিত হয়।

‘সি’ গ্রুপে মরক্কো ও ব্রাজিল উভয় দলেরই সংগ্রহ ৭ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানে (+৬) এগিয়ে থাকায় গ্রুপ সেরা হয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে, মরক্কোর গোল ব্যবধান ছিল +৩। রানার্স-আপ হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠলেও, হাইতির বিপক্ষে আজকের এই জয় মরক্কোর আত্মবিশ্বাসকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেল।