এম জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার: ঈদুল আজহার ছুটিকে ঘিরে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে দেশি ও স্হানীয় ভ্রমণপিপাসুদের মিলনমেলায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সমুদ্র নগরী কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত। ছুটি কিংবা সুযোগ পেলেই প্রথম টার্গেট থাকে কক্সবাজার, সমুদ্রের নোনাজল থেকে স্নান সেরে উঠে আসা পর্যটক দম্পতি আবির আহমেদ বলেন, গাজীপুর থেকে তারা তিনদিনের জন্য কক্সবাজার এসেছেন। এখান থেকে বান্দরবান দুই দিন থেকে তারপর ফিরবেন।
ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকাল থেকেই দলে দলে পর্যটক সৈকতে ভিড় করতে শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় দর্শনার্থীরাও। সৈকতের তিনটি পয়েন্ট জুড়ে দেখা যায় ঈদ আনন্দের প্রাণবন্ত আয়োজন।

ঈদের তৃতীয় দিন ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার, সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট ছাড়াও বৌদ্ধ মন্দির, বার্মিজ মার্কেট, হিমছড়ি ঝর্ণা, গোয়ালিয়া পাহাড়, ইনানী বিচ ও পাটোয়ারটেক পাথর বীচে চোখে পড়ার পতো পর্যটকে মুখরিত ছিল।
৩১ মে, রোববার, সকাল থেকে হোটেল মোটেল জোন কলাতলী দেখাযায়, অনেক পর্যটক বাড়ি ফিরলেও অসংখ্য ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদে আগমন লক্ষ্যনিয়।
আবাসিক হোটেল মোটেল জোন মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ঈদের ছুটিতে আশানুরূপ পর্যটক আমরা পেয়েছি, এখনো বেশির ভাগ হোটেল মোটেল অধিকাংশ রোম বুকিং রয়েছে এখনো আসছে আশাকরি এ সপ্তাহ জুড়ে পর্যটক সমাগম একই থাকবে।
সরজমিনে দেখা যায়, পর্যটকরা কেউ নেমেছেন সমুদ্রস্নানে, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বালিয়াড়িতে। আবার অনেকে স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ঢাকার মালিবাগ থেকে এসেছে আবুল কালাম তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে আনন্দ উপভোগ করতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজার এসেছি। আরো ২ দিন কক্সবাজার থাকবো। ইনানী, পাটুয়ারটেক, হিমছড়ি ও মেরিন ড্রাইভ ঘুরে বেড়াব।
সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে সেলফি তুলছেন রাজু ও তানজিনা দম্পতি। তারা বলেন, পাহাড়-সাগর ও সূর্যাস্ত উপভোগে কক্সবাজারে ছুটে আসা। সূর্য ডুবে যাচ্ছে, এটা চমৎকার একটা দৃশ্য, যা ঢাকা শহরে দেখা যায় না। এই মুহূর্ত দুজনে মিলে ক্যামেরা বন্দি করছি।

এদিকে পর্যটকদের ঈদ আনন্দ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে তারকামানের হোটেলগুলোতে চলছে নানা আয়োজন। হোটেল ওশ্যান প্যারাডাইসের পরিচালক মিশু বলেন, ৩ দিনের ফুড ফেস্টিবলের পাশাপাশি থাকছে কনসার্টের আয়োজন। যেখানে পর্যটকদের আনন্দ দিতে গান পরিবেশন করেছে দলছুট। আমাদের অতিথি সহ অসংখ্য পর্যটক বেশ আনন্দ উপভোগ করেছে।
আগত পর্যটক ও স্থানীয় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৮০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মূলত লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকতকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। পাশাপাশি ইনানি, পাটুয়ারটেক ও হিমছড়িতেও নিয়মিত পুলিশ মোতায়েন আছে।

দুই শিফটে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে রাত ৮টার পর পর্যটকদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হবে, যাতে ছিনতাইসহ কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। এ লক্ষ্যে বিশেষ টিমও নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া ইনানিতে অবস্থিত জোন অফিসের মাধ্যমে ইনানি, পাটুয়ারটেক ও হিমছড়ি এলাকায় সমন্বিত নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।












