কাপ্তাইয়ের প্রথমবারের মতো কোরবানির পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই (রাঙামাটি): আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কাপ্তাই উপজেলায় প্রথমবারের মতো যথাযথ নিয়মে কোরবানির পশু জবাই এবং পশুর চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের লক্ষ্যে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাপ্তাই উপজেলায় এরআগে এধরনের কোনো আয়োজন হয়নি।

বুধবার (২০ মে) কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষ ‘কিন্নরীতে এই ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হানুল ইসলাম-এতে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. দিলদার হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রহমত উল্লা, কাপ্তাই উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. হারুনুর রশিদ, ডা. ওমর ফারুক রনি এবং কাপ্তাই সহকারী তথ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।​ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের কর্মকর্তা বরুন কান্তি চাকমার সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের সম্মানিত খতিব, ইমাম, ওলামায়ে কেরাম, মুসল্লি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।​ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বক্তারা ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে সম্পূর্ণ মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু জবাইয়ের নিয়মকানুন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। একই সাথে, কোরবানির পর পশুর চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য প্রাথমিক স্তরেই বৈজ্ঞানিক ও সঠিক পদ্ধতিতে লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণের নানাবিধ কৌশল ও সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন,”কোরবানির পশুর চামড়া আমাদের জাতীয় সম্পদ। সঠিক নিয়মে চামড়া না ছাড়ানো এবং সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর প্রচুর চামড়া নষ্ট হয়। যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা এই অপচয় রোধ করতে পারি।”

তিনি চামড়া সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই এবং জবাইয়ের পর দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

কাপ্তাইয়ে এই প্রথম এমন সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ায় অনুষ্ঠানে আগত ওলামায়ে কেরাম ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অর্জিত জ্ঞান মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।