কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের জারুল বনিয়া এলাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রবাসফেরত রেমিট্যান্সযোদ্ধা আবু তালেব গড়ে তুলেছেন এক ব্যতিক্রমধর্মী লিচু বাগান। জাল বা কঠোর পাহারা ছাড়াই তিনি বাগানটি উন্মুক্ত রেখেছেন পাখি ও বনের প্রাণীদের জন্য। স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে পাহাড়ের ঢালুতে বিশাল এ ফলের বাগান গড়ে তোলেন আবু তালেব। লিচুর পাশাপাশি সেখানে রয়েছে বিভিন্ন ফলজ ও সবজি গাছ।

লিচুর মৌসুমে সাধারণত বাদুড় ও পাখির হাত থেকে ফল রক্ষায় গাছে জাল ব্যবহার করা হলেও আবু তালেব সে পথে হাঁটেননি। তার বিশ্বাস, এই বাগানের ফল পশুপাখিরও রিজিক। তিনি বলেন, “পাখিরা খাওয়ার পর যা থাকে, সেটাই আমি বাজারে বিক্রি করি।” এমনকি এলাকার শিশুদের জন্যও তিনি বাগানের ফল উন্মুক্ত রেখেছেন।
তবে মানবিক এই উদ্যোগের মাঝেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। খাদ্য সংকটে বনের হাতির পাল প্রায়ই বাগানে হানা দিয়ে কাঁঠাল গাছ নষ্ট করছে। এছাড়া রাতের বেলায় বখাটে ও মাদকসেবীদের আনাগোনাও বাড়ছে।
আবু তালেব জানান, তার বাগানে থাকা চায়না-৩ জাতের লিচু স্বাদে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশি লিচুর মৌসুম শেষ হওয়ার এক থেকে দেড় মাস পর এ লিচু পাকতে শুরু করে। তবে অজ্ঞাত রোগে অনেক লিচু ঝরে পড়ায় তিনি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিউল আলম বলেন, কৃষি বিভাগের সহায়তা পেলে জারুল বনিয়ার এই বাগান পেকুয়ার একটি মডেল বাগানে পরিণত হতে পারে।












