রাউজানে আবারো দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত

শফিউল আলম, রাউজান: চট্টগ্রাম জেলার রাউজানে একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটছে গত ২০ মাস ধরে। দুর্বৃত্তরা এরা কারা একের পর এক হত্যাকান্ড সংগঠিত করে আসলে ও তাদের দমন করতে র্ব্যথ হচ্ছে আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। রাউজানে পাহাড় টিলা ও কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা ও চাদাবাজী নিয়ে আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনা সংগঠিত হয়ে আসছে।

২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) দিবাগত রাতেই রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ঢালার মুখ নঈম সওদাগর বাড়ীর আবুল কালামের পুত্র কাউসার আলম বাবলু (৩০) তাদের বাড়ী থেকে আধা কিলোমিটার দুরে নানার খামার বাড়ী খামার টিলা এলাকায় রাতেই দওয়াত খেয়ে বাড়ী ফেরার পথে দুবৃত্তের হামলায় মারাত্বক ভাবে আহত হয়। আহতবস্থায় বাবুলকে তার মামাতো ভাইয়েরা উদ্বার করে রাউজানের গহিরা জে,কে মেমেরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যায়। বাবুলুর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বললে তার স্বজনেরা মুমুর্ষ অবস্থায় বাবলুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান। দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত কাউসার আলম বাবলুর পিতা আবুল কালম বলেন, আমার ছেলে কৃষি, ক্ষেত খামারের কাজ করেন । সে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত, এলাকায় সন্ত্রাসীদের চাদাবাজী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় আমার ছেলেকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধের জের ধরে রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ঢালার মুখ এলাকার বাসিন্দ্বা ডাকাত আলম ও তার সহযোগীদের প্রকাশ্যে দিবালোকে রাউজান পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম রাউজান চারাবটতল বাজারের পাশে কায়কোবাদ চৌধুরী জামে মসজিদ এর পাশে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা গুলি করে। ঘটনাস্থলে ডাকাত আলম নিহত হয়। পরে চিকিসাধিন অবস্থায় আলমের আরো একজন সহযোগী মারা যায়। রাউজানের পুর্ব রাউজানে যুবদল কর্মী ইব্রাহিম, কদলপুরে যুবদল নেতা সেলিম সহ চার দুবৃত্তের হামলায় নিহত হয়। রাউজানের বাগোয়ানের ব্যবসায়ী আবদুল হাকিমকে কর্ণফুলী নদীর বালু উত্তোলনের বিরোধের জের ধরে চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়কের মদুনাঘাট এলাকায় প্রকাশ্যে দিবালোকে তার কার আটক করে ফ্লিমি কায়দায় গুলি করে হত্যা করে। রাউজানের হলদিয়ায় যুবদল নেতা কমর উদ্দিন জিতুকে আমির হাট বাজারে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। রাউজান পুর্ব গুজরা ইউনিয়নের আধার মানিক এলঅকার বাসিন্দ্বা যুবদল নেতা জানে আলমকে তার বাড়ীর সামনে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পুর্ব গুজরা ইউনিয়নের আধার মানিক এলাকার আর এক যুবদল নেতা মুজিবকে আলি মিয়ার হাট বাজারে রমজান মাসে ইফতারের পর প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে।

রাউজানের পাহাড়ী এলাকার কদলপুর ইউনিয়নের কালকাতর পাড়া, শমশের পাড়া, ভোমর পাড়া দক্ষিন জয়নগর, পাহাড়তলী ইউনিয়নের উনসত্তর পাড়া, জগৎপুর আশ্রম, মহামুনি বহল পুর রাউজান ইউনিয়নের পুর্ব রাউজান, রানী পাড়া, শমশের নগর, জয় নগর, রশিদর পাড়া, ক্উেটিয়া পুর্ব রাউজান, রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের রাউজান রাবার বাগান, কাজী পাড়া, চিকনছড়া, মুখছড়ি, ঢালারমুখ, রহমত পাড়া, খামার টিলা, দাওয়াত খোলা, আইলী খীল, ওয়াহেদের খীল, জঙ্গল রাউজান, ডাবুয়া ইউনিয়নের মেলুয়া, সুড়ঙ্গা, পুর্ব ডাবুয়া, হলদিয়া ইউনিয়রের উত্তর আইলী খীল, জানি পাথর, বানারস, বৃকবানুপুর, বৃন্দ্বাবন পুর সিংহরিয়া, রাধামাধবপুর বিভিন্ন এলাকায় খামার বাড়ী, ও বাড়ীতে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসাবে গড়ে উঠেছে । এছাড়া ও রাউজান উপজেলার সীমানতবর্তী রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নের তাল তলা, নাকাটা, ডিলাইট, মনাই পাড়া, ডাক্তার ছোলা, ডাইলং পাড়া, চৌধুরী পাড়া, ডাবুয়া পাড়া, কচু পাড়া, রঙ্গী পাড়া, চিকন ছড়া এলাকায় খামার বাড়ী ও পাহাড়ী এলাকা গুলো সন্ত্রাসীদের নিরাপদ স্থান। রাউজানে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও হত্যা অপরাধ সংগঠিত করে সন্ত্রাসীরা পাহাড়ী এলাকার মধ্যে তাদের নিরাপদ আস্তনায় আর্ত্বগোপন করে। পাহাড়ী এলাক্রা নিরাপদ আস্তানা থেকে পাহাড়ী পথে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পোমরা, কাউখালী উপজেলার পাহাড়ী এলাকার পথ দিয়ে সন্ত্রাসীরা যাতায়াত করে। রাউজানের পাহাড়ী এলাকা ডাবুয়া ইউনিয়নের কলমপতি গ্রামে গত ২০০৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর র‌্যাবে সাথে বন্দ্বুকযুদ্বে শীষ সন্ত্রাসী জানে আলম সহ তার ৯ সহযোগী নিহত হয়। ঐ সময়ে র‌্যাব বিপুল পরিমাণ অস্থ্র ও গুলি উদ্বার করে। পরবর্তী রাউজানের পুর্ব রাউজান ভোমর ঢালা এলাকায় পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্বে ডাকাত দলের ৬ সদস্য নিহত হয়। গত কয়েকদিন পুর্বে রাউজানের কদলপুর এলাকায় কৃষি জমির মাটি কাটাকে কেন্দ্র আলম ও রুস্তম গ্রুফের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা সংগঠিত হয়। গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার দিবাগত রাতে রাউজানের ঢাøলার মুখ এলাকায় দৃবৃত্তের গুলিতে নিহত বাবলুর হত্যাকান্ডের বিষয়ে রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে হত্য্কাান্ডের সাথে কারা জড়িত খতিয়ে দেখছে।