শফিউল আলম, রাউজান: হালদা পাড়ের ফসলী জমিতে লাল মরিচের ফলন ভাল কৃষকের মুখে হাসি। রাউজান হাটহাজারী, ফটিকছড়ি উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদী। হালদা নদীর পাড়ের ফসলী জমিতে কৃষকরা মরিচ ক্ষেতের চাষাবাদ করেন। হালদা নদীর পানি সেচের মাধ্যমে ব্যবহার করে প্রতি বৎসর শুস্ক মৌসুমে কৃষকরা মরিচ ক্ষেতের চাষাবাদ করেন। প্রতি বৎসরের মতো এবৎসর ও হালদা পাড়ের ফসলী জমিতে কৃষকরা মরিচ ক্ষেতের চাষাবাদ করেছে। মরিচের ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকরা খুশি। হালদা পাড়ের ফসলী জমিতে উৎপাদিত মরিচ অন্য এলাকার মরিচের চেয়ে রয়েছে আলাদা কদর।

চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফতেহ নগর, নদীম পুর, ইন্দিরা ঘাট, গহিরা ইউনিয়নের কাজী পাড়া, কোতোয়ালী ঘোনা, রাউজান পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বদুর ঘোনা, মঘাশাস্ত্রি বড়ুয়া পাড়া, অংকুরী ঘোনা, পশ্চিম গহিরা বড়ুয়া পাড়া, দক্ষিণ গহিরা, মোবারক খীল জামতল, পশ্চিম বিনাজুরী, কাগতিয়া,কাসেম নগর, গোলজার পাড়া, আজিমের ঘাট, ডোমখালী, মগদাই, পশ্চিম আবুর খীল, খলিফার ঘোনা, উরকিরচর, মইশকরম, হারপাড়া, সার্কদা, মোকামী পাড়া, কচুখাইন, হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ, ধলই, লাঙ্গলমোড়া, ছিপাতলী, মেখল, মির্জাপুর, গুমানমর্দন, গড়দুয়ারা, মাদ্রাসা, দক্ষিন মার্দ্রাসা, ফটিকছড়ি উপজেলার জাফত নগর, নিশ্চিন্তাপুর, দক্ষিন নিশ্চিন্তাপুর,সমিতির হাট, রোসাঙ্গীরি, লেলাং, পাইনদং, নাজির হাট, সুয়াবিল, এলকায় হালদা নদীর তীরে ফসলি জমিতে শুস্ক মৌসুমে মরিচ চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা।কৃষকরা হালদা নদী থেকে সেচের মাধ্যমে পানি ব্যবহার করেন মরিচ ক্ষেতে। নদীর জেগে উঠা চরেও মরিচের চাষাবাদ করেন কৃষকরা। এখানকার উৎপাদিত মরিচ অন্য এলাকার জমি থেকে উৎপাদিত মরিচের চেয়ে কদর বেশি। সুস্বাদু রান্নার প্রধান উপাদান মসল্লা। মসল্লার প্রধান উপকরণ শুকনো মরিচ।হালদার পাড়ের লাল মরিচ এখন দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। ভারত, পাকিস্তান শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব ও দুবাইয়ে হালদা নদীর তীরের উৎপাদিত মরিচের সুনাম রয়েছে। প্রবাসীরা দেশে ছুটি শেষ করে প্রবাসে যাওয়ার সময় তারা ব্যাপক পরিমাণ এখানকার উৎপাদিত লাল মরিচ ক্রয় করে মিলে গুঁড়ো করে নিয়ে যান।পাইকারি বিক্রেতারা হাটহাজারী বাজার থেকে ক্রয় করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা মেশিনে সেগুলো প্যাকেটজাত করে। বিশেষ করে হাটহাজারির বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকেরা হালদা নদীর চরে শত শত একর জমিতে মরিচ চাষ করে থাকেন।
মৌসুমী প্রাকৃতিক অবস্থা ভালো থাকলে মরিচ চাষিরা প্রতি মৌসুমে ৭০ হাজার থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকার উপর পর্যন্ত মরিচ বিক্রি করে থাকে। এই লাল মরিচ চাষের শুরুতে প্রায় বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকার মতো ব্যয় হলেও লাভ হয় তার দ্বিগুণ। সপ্তাহে দুইদিন হাটহাজারী নাজিরহাট কাটিরহাট বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বাজার বসে ব্যবসায়ীরা হাটহাজারীতে এসে পাইকারি মূল্য মরিচ কিনে নিয়ে যান। রাউজানের হাট বাজারেও হালদা এ মরিচ বিক্রয় করেন কৃষকরা।হাটহাজারী ও রাউজান, ফটিকছড়ি উপজেলার অন্যান্য বাজারগুলোর চেয়ে হাটহাজারী বাজারে অতি শুলভ মূল্যে এখানকার মরিচ পাওয়া যায়। হাটহাজারীর হালদা পাড়ের লাল মরিচ প্রায় প্রতিকেজি ৪শত থেকে ৫শত টাকা। বেশি চাহিদার কারণে এই মরিচের মূল্য বেশি বলে জানান ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।হালদা পাড়ের মরিচ চাষি রুকুন উদ্দিরেনর সাথে সাথে কথা বলে জানা যায় আমাদের হালদা পাড়ের লাল মরিচ খুব সুস্বাদু ও ঝাল-মিষ্টি। তাই দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। তিনি বলেন, আমি এ বৎসর ৩২ শতক জমিতে চাষ করেছি। ফলনও খুবই ভালো হয়েছে। ৩২ শতক জমিতে মরিচ ক্ষেতের চাষাবাদে খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ৩২ শতক জমি থেকে ৫মন ওজনের শুকনা মরিচ পাওয়া যাবে। হাটহাজারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে হাটহাজারী উপজেলার হালদা নদীর তীরের ফসলি জমিতে প্রতিবছর ২শত ২০ হেক্টর জমিতে হালদা মরিচ চাষ হয়। আবার হালদা নদীর বাইরেও ভালো মরিচ চাষ হয়ে থাকে। সেগুলোও মিষ্টি ও সুস্বাদু। হাটহাজারী বাজারে প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার বাজার বসে। এই দুইদিন দেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগেভাগে মরিচ ক্রেতারা চলে আসে মরিচ কিনতে। মরিচ ব্যবসায়ী নাসির বলেন, হালদা পাড়ের ফসলী জমি থেকে উৎপাদিত শুকনা মরিচ আমি নাজিরহাট থেকে প্রতি কেজি ৩শত ৮০ টাকা করে ক্রয় করে এনে মরিচ মিলে গুড়া করে প্রতি কেজি মরিচ ৪শত ৮০ টাকা করে বিক্রয় করছি
রাউজান উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুম কবির বলেন, রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় দুইশত ত্রিশ হেক্টর জমিতে মরিচ ক্ষেতের চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা। তার মধ্যে হালদা নদীর তীরের ১ শত হেক্টর ফসলি জমিতে মরিচ ক্ষেতের চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। প্রতি হেক্টর মরিচ চাষাবাদ করতে খরচ হয় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা । প্রতি হেক্টর মরিচ ক্ষেতের ফলন থেকে কাচাঁ মরিচ উৎপাদিত হয় পাচঁ মেট্রিক টন। উৎপাদিত কাচাঁ মরিচের বর্তমান বাজার মুল্য অনুসারে বিক্রি করে দুই লক্ষ নব্বই হাজার টাকা আয় করেন তারা। প্রতি হেক্টর মরিচ ক্ষেতের জমি থেকে শুকনা মরিচ উৎপাদিত হয় এক মেট্রিক টন। প্রতি হেক্টরের উৎপাদিত এক মেট্রিক টন শুকনা মরিচ বর্তমান বাজার মুল্য অনুসারে বিক্রি করে কৃষকেরা তিন লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা আয় করেন বলে উপজেলা কৃষি অফিস জানায়।












