মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, প্রিয় চট্টগ্রাম: নতুন বছরের আগমনের ঠিক প্রাক্কালে চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড় এলাকা রূপ নিয়েছে রঙিন ফুলের এক প্রাণবন্ত উৎসবে। গাঁদা, গোলাপ ও রজনীগন্ধার সৌরভে ভরে ওঠা এই বাজারে প্রকৃতি ও মানুষের আনন্দ যেন একসঙ্গে মিলেমিশে গেছে। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ফুলের এই বাজারে এখন শুধু বাণিজ্য নয়, মিশে আছে উৎসবের আবেগ আর জীবিকার সংগ্রাম।
পহেলা বৈশাখ। বাংলা সনের প্রথম দিনকে বরণ করে নিতে চট্টগ্রামজুড়ে এরি মাঝে চলছে নানা আয়োজন। বাঙালি সংস্কৃতি ও উৎসবের আবহে মুখর নগরী। ডিসি হিল ও সিআরবির পাশাপাশি চেরাগী পাহাড়ও এখন বর্ষবরণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

নববর্ষের আগের দিন থেকেই চেরাগী পাহাড়ের ফুল ব্যবসায়ীরা বাড়তি বিক্রির আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকেই দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে দেখা যায়। বিক্রেতারা আগেভাগেই বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় দোকানে বেশি পরিমাণ ফুল সাজিয়ে রাখেন।
বিকেলে মোমিন রোড এলাকার ফুলের দোকানগুলোতে দেখা যায় কর্মব্যস্ত পরিবেশ। ব্যবসায়ীরা জানান, পহেলা বৈশাখ ও বর্ষবরণ উৎসবকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে, ফলে ফুলের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। চেরাগী ফুলের বাজারে বর্তমানে দেশি গোলাপ ২০ থেকে ৩০ টাকা, চায়না গোলাপ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, রজনীগন্ধা ১৫ থেকে ২০ টাকা, গাঁদা ফুলের মালা ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং ফুলের বেড়ি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফুল বিক্রেতা সুমন সেন বলেন, “প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে বিক্রি বাড়ে। এবারও বেশি ফুল মজুত করেছি, ভালো বিক্রির আশা করছি।”
আরেক বিক্রেতা হাসান বলেন, “বছরের বিশেষ দিনগুলোর মধ্যে পহেলা বৈশাখ অন্যতম। এই দিনে ফুলের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়।”
ফুল কিনতে আসা ক্রেতা নারগিস বলেন, “বছরের প্রথম দিনে পরিবারের জন্য ফুল কিনেছি, সবাই খুশি হয়।”
এদিকে ডিসি হিল, চেরাগী পাহাড় ও সিআরবি এলাকায় উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।
চট্টগ্রামের ফুলের বাজার মূলত চেরাগী পাহাড়কেন্দ্রিক। এখানে প্রায় ২৫টি বড় ডিপো রয়েছে। এছাড়া আগ্রাবাদ, চকবাজার, জিইসি ও বহদ্দারহাটসহ নগরীর ৭০ু৭৫টি দোকানেও উৎসবকালে ক্রেতার চাপ বাড়ে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ বিশেষ সময়কে সামনে রেখে প্রায় ৫ কোটি টাকার ফুল মজুত করা হয়েছে। অধিকাংশ ফুল এসেছে যশোর, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা ও রংপুর থেকে, পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে চকরিয়া থেকেও সরবরাহ আসে।
চট্টগ্রাম ফুল ব্যবসায়ী ও চাষি বহুমুখী সমবায় সমিতির সূত্রে জানা যায়, আগে থাইল্যান্ড থেকে ফুল আমদানি হলেও বর্তমানে তা বন্ধ। ভারত ও চীন থেকে আমদানিতে খরচ বাড়লেও দেশি ফুলের মান ভালো হওয়ায় বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এবারের বিক্রি গত বছরের তুলনায় বেশি হবে এবং এ বিক্রির জোয়ার আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে।












