টেকনাফ-উখিয়ায় দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছ ৫০ শতাংশ

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণের প্রথম সাত ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী-পুরুষ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। অনেকে কোলে চড়ে কিংবা লাঠিতে ভর দিয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নে ৫৪ শতাংশ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তা ইমামুল হাফিজ নাদিম।

উখিয়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা জানান, অন্যদিকে উখিয়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে একই সময় পর্যন্ত ৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুই উপজেলাতেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচন শেষে যেন সহিংসতা না ঘটে, সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ বাজারপাড়া দারুস শরিয়া মাদরাসা কেন্দ্রের দুটি বুথে বেলা ২টা পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট গ্রহণ হয়েছে। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মাস্টার আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সেখানে পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি ছিল।

টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া হাজী ইসলাম প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ডা. রিয়াদ মাহমুদ সাঈদ চৌধুরী।

কয়েকজন ভোটার জানান, দীর্ঘদিন পর শান্তিপূর্ণভাবে নিজের ভোট নিজে দিতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতেও এমন পরিবেশ বজায় থাকবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।

একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৪ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১৫টি। এর মধ্যে ৪৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮১৯ জন।

পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮২ জন, নারী ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৫১ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৬ জন।
এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন-বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী, জামায়াতের নূর আহমদ আনোয়ারী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা নুরুল হক এবং এনডিএমের সাইফুদ্দিন খালেদ। তবে স্থানীয়ভাবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে ভোটারদের ধারণা।