ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে নন-একাডেমিক কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ফর নন-একাডেমিক স্টাফ’ শীর্ষক একটি দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

০৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। রিসোর্স পারসন ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ও রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ। উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, আইকিউএসির ডিরেক্টর প্রফেসর ড. সাহীদ মো. আসিফ ইকবাল, অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর (কিউআর) জনাব তানজিনা আলম চৌধুরী, অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর (ইটিএল) জনাব গাজী শাহাদাৎ হোসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী। কর্মশালায় মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা ও পেশাগত নৈতিকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নন-একাডেমিক কর্মকর্তারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমের মেরুদণ্ড। তাঁদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা ও মানবিক আচরণই একটি আধুনিক ও মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার ভিত্তি গড়ে তোলে।
তিনি আরও বলেন, এই কর্মশালা শুধুমাত্র একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নয়; বরং নিজেদের দায়িত্ববোধ, পেশাগত গর্ব ও সেবার মান আরও একধাপ এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। প্রশাসনিক কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য একটি সহায়ক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
রিসোর্স পারসন প্রফেসর ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ ‘প্রফেশনাল ইথিক্স অ্যান্ড এটিকেট ফর অ্যানহেন্সিং প্রডাক্টিভিটি’, ‘ইনটেনসিভ ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন’ এবং ‘ফাইলস অ্যান্ড ডক্যুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সেশন পরিচালনা করেন।
প্রফেসর ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ তাঁর বক্তব্যে বলেন, পেশাগত নৈতিকতা ও শালীন আচরণ কেবল ব্যক্তিগত পরিচয়ের অংশ নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ভাবমূর্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, কার্যকর যোগাযোগ ও আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা প্রশাসনিক কর্মীদের কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক। সহকর্মী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইতিবাচক ও পেশাদার আচরণ একটি সুস্থ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থার মূলভিত্তি হলো সুশৃঙ্খল ফাইল ও ডকুমেন্ট ব্যবস্থাপনা। সঠিকভাবে নথি সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা সময় ও শ্রম বাঁচানোর পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করে তোলে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আধুনিক ডকুমেন্টেশন কৌশল আয়ত্ত করা প্রয়োজন, যাতে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান সংরক্ষণ ও তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের নন-একাডেমিক কর্মকর্তাবৃন্দ কর্মশালায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।












