বাংলাদেশী ম্যাজিকম্যান: জনসমুদ্রের মাঝেই দাঁড়িয়ে শোনাচ্ছেন নতুন বাংলাদেশ গড়ার বার্তা

মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, প্রিয় চট্টগ্রাম: রাজনৈতিক দলের সমাবেশ যেন কেবল একটি রাজনৈতিক জনসভা নয়—একটি আবেগ, স্মৃতি ও প্রত্যাশার মিলনমেলা। বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে দুপুর গড়াতেই জনতার ঢল নামে। মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত দেখা যাচ্ছে না। লোকে লোকারণ্য জনসভা—কারণ একটাই, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এসেছেন।

দিনাজপুর ঐতিহ্যগতভাবে পরিচিত “ধানের জেলা” হিসেবে। সেই ধানের জেলা দিনাজপুরে দাঁড়িয়ে জনসমুদ্রের সামনে তারেক রহমান ধানের শীষের পক্ষেই ভোট চান। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, দিনাজপুর তার নানির বাড়ি। নাতি হিসেবে তিনি এই জেলার মানুষের কাছে ধানের শীষে ভোট কামনা করছেন। মুহূর্তেই জনতা করতালি ও স্লোগানে মাঠ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
রাজনীতির মাঠে যেখানেই তারেক রহমান যান, সেখানেই দেখা যায় জনতার বাধভাঙা ঢল। আজ বিরামপুর তারই প্রমাণ। অনেকের চোখে তিনি এখন “বাংলাদেশী ম্যাজিকম্যান”—যিনি জনতাকে এক সুতোয় বাঁধতে জানেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্থান-পতন, মামলা, বিদেশে অবস্থান এবং সময়ের কঠিন বাস্তবতা পেরিয়ে তিনি আবারও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় নেতৃত্ব, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে তার ভূমিকা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
তারেক রহমান বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচটি আসনের সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই তার সক্রিয় রাজনৈতিক যাত্রা শুরু।
২০০১ সালের নির্বাচনের পর তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্ত হন এবং ২০০২ সালে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। সময়ের পরিক্রমায় রাজনৈতিক বিতর্ক, সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও দীর্ঘ নির্বাসন ও বাস্তব অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক দর্শনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
প্রায় ১৮ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন—সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনার মধ্য দিয়েই জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। তিনি শান্তিপূর্ণ রাজনীতি, সংযম এবং শৃঙ্খলার ওপর জোর দেন।
বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারণায় দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছেন তিনি। জনসভা, সমাবেশ ও সরাসরি মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট, প্রত্যাশা ও স্বপ্নের কথা শুনছেন। একই সঙ্গে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগের তারেক রহমান আর বর্তমান তারেক রহমান এক নন। বক্তব্যে সংযম, আচরণে শালীনতা এবং পরিকল্পনাভিত্তিক রাজনীতির চর্চা তাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ, মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয়তা এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় তার দৃঢ় অবস্থান বিএনপির রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে বিরামপুরের জনসভা আবারও দেখিয়ে দিল—বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমান শুধু একটি নাম নয়, তিনি একটি প্রবাহ। সময়ই বলে দেবে এই “বাংলাদেশী ম্যাজিকম্যান” আগামী দিনে দেশের রাজনীতিকে কোন পথে নিয়ে যান।