দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় আমেরিকা, অন্য পাল্লায় ভারত: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, স্বার্থান্বেষী মহল যারা দাঁড়িপাল্লা নিয়ে নির্বাচনে এসেছে, তারা ন্যায়ের কথা বললেও বাস্তবে তাদের এক পাল্লায় রয়েছে আমেরিকা এবং অন্য পাল্লায় ভারত। বাংলাদেশের মানুষ আমেরিকা বা ভারতের ইনসাফ দেখতে চায় না, তারা ইসলামের ইনসাফ দেখতে চায়।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালীর বাউফলে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক ও তাদের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ইঙ্গিত করে চরমোনাই পীর বলেন,

স্বার্থান্বেষী মহল আজকে যারা নাকি দাঁড়িপাল্লা নিয়ে আসছে তারা বলে কি, ন্যায়ের প্রতীক, ইনসাফের প্রতীক। কোন ইনসাফ? এখন তো দাঁড়িপাল্লার দুইটা পাল্লা দেখি। পাল্লা কয়টা? দুইটা। এক পাল্লার ভিতরে দেখি গোপনে আমেরিকা, আরেক পাল্লায় দেখি গোপনে ভারত। আমরা বাংলাদেশের মানুষ আমরা আমেরিকার ইনসাফ দেখতে চাই না, আমরা ভারতের ইনসাফ দেখতে চাই না, আমরা ইসলামের ইনসাফ দেখতে চাই।

নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে রেজাউল করীম বলেন, স্থানীয় নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক নয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হবে, তাতে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের প্রতিফলন ঘটবে। কারা সরকার গঠন করবে এবং কোন আইনে দেশ চলবে, তা এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে।

বিএনপি ও জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি বা তাদের জোটভুক্তরা এবং জামায়াত কেউই কিন্তু বলেনি যে তারা ইসলাম অনুযায়ী রাষ্ট্র চালাবে। তারা পরিষ্কার বলেছে, প্রচলিত ধারা ও নিয়ম-আইন অনুযায়ী দেশ চালাবে। শফিকুর রহমান সাহেব দাঁড়িপাল্লা নিয়ে নির্বাচন করছেন, কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত হলো তারা ইসলাম অনুযায়ী রাষ্ট্র চালাবেন না। একইভাবে বিএনপির প্রার্থীও ইসলামি শাসনের কথা বলেননি। একমাত্র ইসলামী আন্দোলন ও আমাদের প্রার্থী আব্দুল মালেক আনওয়ারী হাতপাখা নিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন যে, আল্লাহ কবুল করলে আমরা ইসলাম অনুযায়ী রাষ্ট্র চালাব।’

বিগত ৫৪ বছরের রাজনীতির সমালোচনা করে চরমোনাই পীর বলেন, ‘প্রচলিত আইনের কারণেই দেশটা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই আইনের কারণেই দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে বিদেশে ‘বেগমপাড়া’ তৈরি হয়েছে এবং দেশে বসে অন্য দেশের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ ইসলামের পক্ষে একটি সুন্দর পরিবেশ চেয়েছিল, কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহল তা হতে দিচ্ছে না।’

প্রতিশোধের রাজনীতির অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে বিএনপি ঘর ছেড়ে পালায়। যখন বিএনপি ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ ঘর ছেড়ে পালায়। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন যদি ক্ষমতায় আসে, তবে কোনো নিরপরাধ মানুষকে ঘর ছেড়ে পালাতে হবে না। সবাই এই জমিনে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।’

বাউফলকে ইসলামের ঘাঁটি উল্লেখ করে তিনি নতুন ভোটার ও যুবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের প্রথম ভোটটা যেন ইসলামের পক্ষে, ইনসাফের পক্ষে এবং হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে হয়।’

সমাবেশে তিনি বাউফলে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল মালেক আনওয়ারীকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সবার কাছে হাতপাখার জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় দলের স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।