সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রাম-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভোট কেনার অভিযোগ তুলে একটি রশিদের ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, প্রার্থী নিজে রশিদ ছাপিয়ে ভোটারদের অর্থ প্রদান করছেন।
তবে বিষয়টি যাচাই করে অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ভাইরাল হওয়া রশিদটির ভেতরেই একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

রশিদে ‘সাহেদা বেগম’ নামে একজন নারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর উল্লেখ রয়েছে, যার একটি অংশ নীল কালি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। দৃশ্যমান অংশ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পুরো নম্বরটি সম্ভবত ১৪ বা ১৫ অঙ্কের। অথচ বাংলাদেশে বর্তমানে স্মার্ট এনআইডি নম্বর ১০ অঙ্কের। আগে ১৩ অঙ্কের এনআইডি থাকলেও পরে জন্মসাল যুক্ত করে ১৭ অঙ্কের নম্বর চালু করা হয়েছে। ফলে ১৪ বা ১৫ অঙ্কের এনআইডি নম্বরের কোনো বৈধ কাঠামো নেই, যা রশিদটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এ ছাড়া রশিদে দেওয়া বিকাশ এজেন্ট নম্বরটিও যাচাই করে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। বিকাশ অ্যাপে ওই নম্বরে এজেন্ট হিসেবে টাকা পাঠানোর চেষ্টা করলে সতর্কবার্তা দেখায়—“এই নাম্বারটি লেনদেনের জন্য উপযুক্ত নয়।” তবে একই নম্বরে ব্যক্তিগতভাবে ‘সেন্ড মানি’ করার অপশন থাকায় বোঝা যায়, এটি কোনো এজেন্ট নম্বর নয়; বরং একটি ব্যক্তিগত নম্বর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একই একটি ছবিই বিভিন্ন পোস্টে বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে। ভিন্ন কোনো কোণ থেকে তোলা ছবি, ভিডিও বা সরাসরি লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাধারণত বাস্তব ঘটনার ক্ষেত্রে একাধিক ভিজ্যুয়াল বা উৎস পাওয়া যায়, যা এখানে অনুপস্থিত।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তার প্রেস উইং কর্মকর্তা আবু তাহেরের নামে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “ভোটার সম্মানি রশিদ নামে একটি এআই বা ফটোশপে তৈরি স্লিপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।”
সব তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এনআইডি নম্বরের গড়মিল, বিকাশ নম্বরের অসামঞ্জস্য, একই ছবির পুনঃব্যবহার এবং প্রার্থীপক্ষের আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতি—সব মিলিয়ে আলোচিত রশিদটি ভুয়া বা সম্পাদিত অপপ্রচারের অংশ ।












