রাজনৈতিক উত্তাপ ও জন-প্রত্যাশা তুঙ্গে
মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, প্রিয় চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ সময় বিমানবন্দর এলাকায় বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তাঁকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরীতে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ, উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক প্রত্যাশা।
নগরীর প্রধান সড়ক, মোড় ও অলিগলিতে ব্যানারুফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এলাকা। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রহ ও উদ্দীপনা। উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রামে এসেছিলেন ২০০৫ সালের ৬ মে। আজ তিনি ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন।
তার এ সফরকে ঘিরে শুধু দলীয় নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষের মাঝেও তৈরি হয়েছে নানা প্রত্যাশা। এ বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের ভেতরকার নেতাকর্মীদের প্রথম প্রত্যাশা হলো—দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নিবেদিত ও যোগ্য নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা। যারা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি, তাদের ভবিষ্যতে উপযুক্তভাবে মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে অনেকেই বলেন, দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা যেন নিজের পছন্দের লোক দিয়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করতে না পারেন। যোগ্যতা ও ত্যাগের ভিত্তিতে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তারা আরও বলেন, দলে ‘হাইব্রিড’ নেতাদের দৌরাত্ম্য যেন না বাড়ে এবং দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার তালিকাও দীর্ঘ। তারা চান, তারেক রহমান সরকারে আসলে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং চট্টগ্রামের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামকে দেশের প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা, কর্ণফুলী সেতুর টোল তুলে দেওয়া, কালুরঘাট সেতু দ্রুত বাস্তবায়ন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম-নাজিরহাট সড়ক চার বা ছয় লেনে উন্নীত করা—এগুলোও রয়েছে সাধারণ মানুষের প্রধান দাবির মধ্যে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবগামী ফ্লাইটের সংখ্যা দুই থেকে তিন গুণ বাড়ানোর দাবি উঠেছে। শিক্ষা খাতে আরও বিশ্ববিদ্যালয় ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে একাধিক আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী।
সব মিলিয়ে, প্রায় দুই দশক পর তারেক রহমানের এই চট্টগ্রাম সফর শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়, বরং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।












