রাউজানে সেনাক্যাম্প স্থাপনসহ সুন্নী জোটের ৬ দফা দাবি

শফিউল আলম, রাউজান: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি একাধিক দাবি জানিয়েছেন বৃহত্তর সুন্নী জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকধারী প্রার্থী অধ্যক্ষ আল্লামা মো. ইলিয়াছ নুরীর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট মোহাম্মদ আমান উল্লাহ।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকাল ৫টায় রাউজান উপজেলা সদরের একটি সেমিনার হলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফেরার প্রত্যাশা থাকলেও রাউজানে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী গত ১৫ মাসে রাউজানে সংঘটিত ১৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, একদিকে খুন, অন্যদিকে মব জাস্টিস-এই পরিস্থিতিতে রাউজান কার্যত আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। এই ভয় নিয়ে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। অথচ জনগণের নিরাপত্তাই এ মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দক্ষিণ রাউজানে দুই মাস আগে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হলেও এর ধারাবাহিকতা না থাকায় সহিংসতা কমেনি, বরং বেড়েই চলেছে। গত ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশে পুরোনো পদ্ধতিতে ভোটকেন্দ্র দখল, কারচুপি ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এজন্য রাউজানের ৯৫টি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জোর দাবি জানান তিনি।

প্রশাসনের কাছে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, অনতিবিলম্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ধারাবাহিক যৌথ অভিযান পরিচালনা, নির্বাচনের আগেই চিহ্নিত ও ওয়ারেন্টভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে যৌথ বাহিনী ও স্পেশাল ফোর্সের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে প্রশাসনের উদ্যোগে একটি যৌথ সভা আয়োজন।

তিনি বলেন, রক্তপাত ও সহিংসতা বন্ধ করে উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে বাকস্বাধীনতার এই যুগে সাংবাদিকদের হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন রাউজানে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করে ইতিহাস সৃষ্টি করবে-এই বিশ্বাস থেকেই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমরা বেশি নির্যাতন, নিপিড়নের শিকার হয়েছি। মোদি বিরোধী আন্দোলনে রাউজানে একমাত্র গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি আমি। ২৪ এর আন্দোলনে আমাদের ছাত্রসেনার কর্মীরা কারানির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এরপরও আমাদের আওয়ামী লীগের বি-টিম বলা হাস্যকর বিষয়। যা নির্বাচনের যড়যন্ত্রের অংশ বলে আমি মনে করে। যুবসেনার নেতা রবিউল হোসেন সুমনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর সুন্নী জোট সমর্থিত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ আল্লামা মো. ইলিয়াছ নুরী। তিনি বলেন, রাউজানে যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তারা সকলেই আমার ভাই। আমরা একজন অপরজনের ভ্রাতৃত্বমূলক আচরণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের একটি সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। এই সময় বৃহত্তর সুন্নী ঐক্য জোট ও যুবসেনা, ছাত্রসেনার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই সময় তারা নির্বাচনী জনসংযোগের সিডিউল প্রকাশ করেন।