কসভোয় সৈন্য পাঠাতে ন্যাটোর অনুমতি চায় সার্বিয়া

কসভোয় সৈন্য পাঠাতে ন্যাটোর অনুমতি চায় সার্বিয়া। কসোভোকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি এ উদ্যোগ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদুল এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কসভোয় অবস্থানরত ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন শান্তিরক্ষী মিশনে সেনা পাঠাতে অনুমতি চাইবে বেলগ্রেড। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিচ এ বিষয়ে ন্যাটোকে একটি ই-মেইল পাঠাবেন এবং শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) আবেদনের লিখিত কপিও পাঠানো হবে ন্যাটোর হেডকোয়ার্টারে।

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুসিচ বলেছেন, ‘কসভোয় ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন শান্তিরক্ষী বাহিনীতে (কেএফওআর) সার্বীয় সেনা এবং পুলিশ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করতে আমাদের মন্ত্রিসভা সম্মত হয়েছে। আমরা আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে ই-মেইলে এবং আগামীকাল (শুক্রবার) কেএফওআর কমান্ডারের কাছে একটি লিখিত আবেদন পাঠাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কেএফওআর-কে অনুরোধ করব যেন জাতিসংঘের ১২৪৪ নম্বর প্রস্তাব অনুসারে ১০০০ সার্বীয় পুলিশ ও সেনা সদস্যকে কসভোয় যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়।’

ভুসিচ বলেন, ‘এই উদ্যোগ সার্বদের সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক ক্রসিং নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এই উদ্যোগ নাটকীয়ভাবে এ অঞ্চলের উত্তেজনা কমিয়ে দেবে। এটি নিঃন্দেহে একটি ভালো সিদ্ধান্ত হবে। তবে আমরা প্রায় নিশ্চিত যে এটি গ্রহণ করা হবে না।’

এদিকে, সার্বিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার হিল বলেন, কেএফওআর অধীন কসভোয় সেনা মোতায়েন করার অধিকার সার্বিয়ার রয়েছে। এ সময় তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের ১২৪৪ নম্বর প্রস্তাবের কথা মনে করিয়ে দেন।

এর আগে, ১৯৯৯ সালে সার্বিয়া থেকে আলাদা হয়ে যায় কসভো এবং ২০০৮ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ কসভোর স্বাধীনতার বিষয়টি স্বীকার করে নিলেও সার্বিয়া এখনও কসভোকে স্বীকৃতি দেয়নি।

সম্প্রতি কসভো দেশটিতে বসবাসকারী সার্বদের যেসব গাড়ির লাইসেন্স ১৯৯৯ সালের আগে সার্বিয়ার অধীন করা হয়েছিল সেগুলো বদলে কসভো প্রশাসনের অধীন করার তোড়জোড় ‍শুরু করলে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। এমনকি সার্বিয়া-কসভো সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছিল।