চট্টগ্রামকে বাসযোগ্য ও নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একগুচ্ছ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। নগরীর বিভিন্ন সেবা ধর্মী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ পরিকল্পনা সমূহ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই কর্মযজ্ঞ এর কারণে নগরবাসীকে সাময়িক সমস্যায় পড়তে হলেও অচিরেই নগরবাসী এর সুফল ভোগ করবে। তখন তাদের সামনে স্বপ্নে চট্টগ্রাম নগরী দৃশ্যমান হবে এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। আজ শনিবার দুপুরে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হলো দৃষ্টি চট্টগ্রামের মাসিক আয়োজন “দৃষ্টি আড্ডা”র দশম পর্ব। “দৃষ্টি আড্ডা সাথে নগর পিতা” এই শিরোনামে আয়োজিত আড্ডায় মধ্যমণি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। এই আয়োজনে তিনি কথা বলেন নিজের শৈশব-কৈশোর- রাজনৈতিক জীবনের কথা, জানান চট্টগ্রাম ঘিরে নিজের স্বপ্নের কথা, মুখোমুখি হন চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের তারুণ্যের, যেখানে উঠে আসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা। “গ্রীণ, ক্লিন সিটি- এটি বাস্তবতা নাকি নিছক স্লোগান?- এই প্রশ্নের জবাবে সিটি মেয়র বলেন, “ সময়ের ব্যবধানে শহরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। নগরবাসীর মধ্যে বিনামূল্যে ৯ লক্ষ বিন বিতরণ, ৫০ লক্ষ লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, পত্র-পত্রিকা ও সিসিএলে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। ডোর টু ডোর কর্মসূচির আওতায় অতিরিক্ত ১৮৭১ জন সেবক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফলে ডাস্টবিনের সংখ্যা অর্ধেকে কমে এসেছে। তবে একথা অনস্কীকার্য যে নগর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশনের নয়, সমাজের সকলের।”সাম্প্রতিক সময়ে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বইমেলার সাফল্য রোমন্থন করতে গিয়ে মেয়র বলেন, “পাঠক, প্রকাশক, লেখক, কবি , সাহিত্যিক, সাংবাদিক- সর্বোপরি সকল স্তরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানসিকতার সম্মিলনে এবারের বইমেলা কল্পনাতীত সফলতার মুখ দেখেছে। তবে এবারের সীমাবদ্ধতাগুলো কাজে লাগিয়ে আগামী বছর আরো বর্ধিত কলেবরে এই আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মহিলাদের জন্য গণপরিবহণের অপ্রতুলতার প্রসঙ্গে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “মহিলাদের গণপরিবহনে আসন নিশ্চিত করা আমাদেও সকলের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের পরিচায়ক। তবে ভবিষ্যতে মহিলাদেও জন্য একটি সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রচলনের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার প্রচেষ্টা চলমান।” আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে বঞ্চিত শিশুদেও শিক্ষার অধিকার, চট্টগ্রামের মেট্রোরেলের সম্ভাব্যতা, চট্টগ্রামের সকল সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কাজের সমন্বয়ের মাধ্যমে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কথা।
ক্রীড়া সংগঠক থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে উঠার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ আমি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের মেধার সব্বোর্চ প্রয়োগ পছন্দ করি। ছাত্রজীবন থেকে একইসাথে চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এর বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সিজেকেএস, বিসিবি সহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। আমি মনে করি, দৃঢ়তা, সক্ষমতা ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে যে কেউ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারবে।”
আড্ডায় স্মৃতিচারণ পর্যায়ে মেয়র নাছিরের শিক্ষাজীবনের সহপাঠী, থিয়েটার ইসস্টিটিউট এর আর্ট ডিরেক্টর আহমেদ ইকবাল হায়দার বলেন, “বাল্যকাল থেকেই নাছির ছিল ধীরস্থিও, শান্ত, পরিচ্ছন্ন মানসিকতার । নিজ কাজের প্রতি তার আন্তরিকতা ছিল সকলের জন্য অনুকরণীয়।”
জামালখান ওয়ার্ড এর সাম্প্রতিক নান্দনিক সৌন্দর্য্য প্রসঙ্গে ওয়ার্ড কমিশনার শৈবাল দাশ সুমন বলেন, “মেয়র নাছিরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও ভালোবাসায় সকল ওয়ার্ডেই পরিচ্ছন্নতা ও নানাবিধ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড চলমান আছে। চট্টগ্রামের নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বর্তমানে জামালখান ওয়ার্ড রোলমডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।”
ওয়ার্ড কমিশনার নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বলেন, “মেয়রের প্রেরণায় চট্টগ্রাম শহরের সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ চলছে, যার ধারাবাহিকতায় আগামী একমাসের মধ্যে অলংকার- সিটি গেইট এলাকায় ফোয়ারা, ম্যুরাল, বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। উন্নয়নের চলমান ধারা বজায় রাখতে দীর্ঘসময় ধরে মেয়র নাছিরের মত নেতৃত্ব বারবার দরকার।”
চসিকের শিক্ষা সচিব সুমন বড়–য়া বলেন, “একজন ভালো জনপ্রতিনিধির বৈশিষ্ট্য হল তারা সমাজ নিয়ে ভাবেন, সমাজকে নাড়া দেয়ার চেষ্টা করেন, বিনয়ী হন এবং আস্থা রাখেন মানুষের প্রতি- যার প্রতিটি আমাদেও মেয়র তার বিভিন্ন কাজের মধ্যে প্রকাশ করেছেন।”
কবি ও সাংবাদিক ওমর কায়সার বলেন, “স্বপ্নের চট্টগ্রাম নগরীর রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য মেয়র নাছিরের মত যোগ্য জনপ্রতিনিধি অপরিহার্য।”
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কবি ও ছড়াকার জিন্নাহ চৌধুরী, মানবাধিকার সংগঠক সাইফুল আলম খান, ক্রীড়া সংগঠক ওয়াহিদুল আলম শিমুল, দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি মাসুদ বকুল, সিনিয়র সহ সভাপতি সাইফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাবের শাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আরফাত, সহ সভাপতি বনকুসুম বড়–য়া, সহসম্পাদক মুন্না মজুমদার, সেরৈভ নাথ, অনির্বাণ বড়–য়া। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন মিলি চৌধুরী, শ্রুতি। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শমিক বড়–য়া, তমা দেবী, কাজী তাওকীর জাহিন, প্রিয়া দাশ। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি ক্লাব (সিইউডিএস), সার্দান বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ডিবেট ক্লাব, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অব ডিবেট, এফসেট ডিবেট ক্লাব (ইউএসটিসি), সরকারী কর্মাস কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি, ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি, র্পোট সিটি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট ফোরাম, সিভাসু মান ক্লাব, পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয় মান ক্লাব, ইউএসটিসি ফার্মা ডিবেট ক্লাব, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এফবিডিএ, চুয়েট মান ক্লাব, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয সায়েন্স সোসাইটি, চট্টগ্রাম মডেল কলেজ, এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ, চিটাগাং সানশাইন কলেজ, বিজিসি ট্রাষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাব, দৃষ্টি স্কুল অব ডিবেট এর ২৩০ জন শিক্ষার্থী।












