৯ মামলার পলাতক আসামী ভন্ড পীর অস্ত্র ও গুলিসহ আটক

শফিউল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ রাউজান নোয়াপাড়া পুলিশ ফাড়ীর ইনচার্জ এস আই মহসিন রেজা ও এস আই হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে গত ১৭ জুলাই শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে দশটার সময়ে অভিযান চালিয়ে ৯টি মামলার পলাতক আসামী ভন্ড পীর বখতেয়ার (৪৫) কে হাটহাজারী উপজেলার নজু মিয়ার হাট এলাকায় তার আস্তানা থেকে আটক করে। ভন্ডপীর বখতেয়ারকে আটক করার পর পুলিশ তার দেয়া তথ্য মতে গত ১৭ জুলাই শুক্রবার রাতে রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম রাউজান ফরেষ্ট অফিস এলাকায় তার বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তার ঘরের ছাদ থেকে ১টি শর্টগান, একটি বন্দুক, দশ রাউন্ড কার্তুজ উদ্বার করে। রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্ল্যাহ বলেন ভন্ড পীর বখতেয়ারের বিরুদ্বে রাউজান থানায় ৯টি মামলা রয়েছে । বখতেয়াকে আটক করার পর তার দেয়া তথ্যমতে অস্ত্র উদ্বারের ঘটনার ব্যাপারে আরো একটি অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে । ভন্ড পীর বখতেয়ারকে গতকাল রাউজান থানা পুলিশ আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে । রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম রাউজান ফরেষ্ট অফিস এলাকার মৃত কাজী বজল আহম্মদের পুত্র বখতেয়ার ও তার সহয়োগীদের নেতৃত্বে রাউজানের পশ্চিম রাউজান কেউটিয়া এলাকায় সোলায়মান খানের ঘর ডাকাতি করে গত ১৯৯৪ সালে । ঐ ডাকতির ঘটনার পর ভন্ডপীর বখতেয়ার ও তার সহযোগিরা রাউজানের পাহাড়ী এলাকায় গোপন আস্তানা গড়ে তোলে । ভন্ড পীর বখতেয়ার ও তার সহযোগীরা পাহাড়ী এলাকায় আস্তানা গড়ে তোলে প্রতিনিয়ত আস্তানা থেকে রাউজানে এস অপহরন, ডাকাতি, চাদাঁবাজী, ছিনতাইয়ের ঘটনা সংগঠিত করতো । ভন্ড পীর বখতেয়ার ও তার সহযোগীকে রাউজান থানার তৎকালীন ওসি নুরুল আলম বিপুল পরিমান অস্ত্র সহ কাউখালী থানার পুলিশের সহায়তায় কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নের মনাই পাড়া থেকে গত ৯৫ সালে গ্রেফতার করে।ভন্ড পীর বখতেয়ার ও তার সহযোগিরা বিপুল পরিমান অস্ত্র সহ আটক করার পর তাদের জেলা হাজতে প্রেরন করেন । ভন্ড পীর বখতেয়ার জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজেকেই ভন্ড পীর দাবী করে তার বাড়ী রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম রাউজান ফরেষ্ট অফিস এলাকায় আস্তানা গড়ে তোলে । ভন্ডপীর বখতেয়ার রাউজানের কয়েকজন তার দালাল রেখে প্রতিদিন তার আস্তানায় নিঃসন্তানকে মহিলাকে সন্তান দান, দাম্পত্য কলহ নিরসন, জীন, পরী, পেত্নির আসর থেকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলে প্রতারনা করে ভন্ড পীর বখতোয়ারের আস্তানায় নিয়ে যেতো । ভন্ডপীর বখতোয়ার নিজেকেই বখতেয়ার ফকির হিসাবে জাহির করতো । ভন্ডপীর বখতেয়ার একজন সন্ত্রাসী ডাকাত হওয়ার পর ও পাঞ্জাবী, মাথায় টুপি দিয়ে আস্তানায় আসা মহিলা পুরুষের সাথে প্রতরানা করে ঝাড়ঁ, ফুক দিয়ে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেতো । ভন্ডপীর বখতেয়ারের আস্তানায় রাউজানের এক মাওলানা বসে প্রতিদিন বখতেয়ারকে ফকির বলে তার আস্তানায় আসা নারী ও পুরুষদের তাবিজ দিতো । বিণিময়ে ঐ মাওলানা বখতেয়ারের কাছ থেকে মোটা অংকের মাসোহারা নিতো বলে এলাকার লোকজন জানান । ভন্ডপীর বখতেয়ারের আস্তানায় থাকা মাওলানা সহ কয়েকজনকে ভন্ডপীর বখতেয়ার কয়েক দপে সৌদি আরবে ওমরায় ও ভারতের আজমীর শরীফে নিয়ে যায় । ভন্ডপীর বখতেয়ার কয়েক দপে পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেলে গেলে ও জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারো এলাকায় ভন্ডামী করে লোকজনের সাথে প্রতারনা করে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিতো । ভন্ডপীর বখতেয়ার এর ভন্ডামী এলাকার লোকজন টের পেয়ে তাকে এলাকা থেকে ধাওয়া করলে ভন্ডপীর বখতেয়ার তার সহযোগীদের নিয়ে হাটহাজারী উপজেলা নজু মিয়ার হাটে আস্তানা গড়ে তুলে । হাটহাজারীর নজু মিয়ার হাটে ভন্ডপীর বখতেয়ার তার আস্তানায় প্রতিনিয়ত নিজেকেই ফকির দাবী করে লোকজনের সাথে প্রতারনা করে আসছে । ভন্ডপীর বখতেয়ার ও তার সহযোগিরা রাউজানে অবস্থানকালে লোকজনের কাছ থেকে চাদাঁ নিয়ে প্রতি বৎসর মহিষ গরু জবাই করে ওরশ করতো । হাটহাজারীর নজু মিয়ার হাট এলাকায় তার আস্তানায় লোকজনের ছাদাঁর টাকা দিয়ে গরু মহিষ জবাই করে ওরশ করে নিজেকেই পীর দাবী করতো ভন্ড পীর বখতেয়ার ।ভন্ডপীর বখতেয়ার ও তার সহযেগিরা হাটহাজারীর নজু মিয়ার হাটে আস্তানা থেকে গোপনে রাউজানে এসে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে পুনরায় আবারো তার আস্তানায় ফিরে যেতো । ভন্ড পীর বখতেয়ার আটক ও তার বাড়ী থেকে অস্ত্র উদ্বার করার ঘটনার ব্যাপারে রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও রাউজান পৌরসভার প্যনেল মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ বলেন, বখতেয়ার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডাকাত । বখতেয়ার ও তার সহযোগিরা সন্ত্রাসী ও ডাকাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ভিন্ন কৌশল বেছে নিয়ে বখতেয়ার নিজেকে ফকির দাবী করে এলাকার সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে প্রতারনা করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে