প্রিয় চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটির বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় সাংবাদিক রুবেল খানের আড়াই বছরের শিশু কন্যা রাফিদা খান রাইফার মৃত্যুর আট বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ সোমবার (২৯ জুন)। ২০১৮ সালের ২৯ জুন রাতে ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে সাংবাদিক রুবেল খানের আড়াই বছরের শিশু কন্যা রাফিদা খান রাইফা মারা যায়। তবে, এ ঘটনায় অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে অভিযুক্তরা রিভিশন দায়ের করার আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে মামলাটির বিচার কার্যক্রম থমকে গেছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত প্রথম মহানগর দায়রা জজ মো.কামাল হোসেন শিকদারের আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

দণ্ডবিধির ৩০৪ (এ) ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যু ও ১০৯ ধারায় অবহেলার প্ররোচনার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে চার আসামির বিরুদ্ধে।’
আসামি চার চিকিৎসক হলেন ডা. লিয়াকত আলী খান, ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ডা. দেবাশীষ সেনগুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেব।
এর পূর্বে, ২০২৪ সালের ১২ মার্চ পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দেন। পরে ১২ মে চট্টগ্রামের চতুর্থ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগপত্রটি আমলে নেন।
রাইফার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় রাইফার বাবা রুবেল খান বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ২০ জুলাই চারজনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী সাংবাদিক রুবেল খানের আইনজীবী মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন সি বার্তাকে বলেন, ‘দায়রা মামলা নম্বর ৩৪১২/২০২৪-এ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ প্রথম আদালত অভিযুক্ত ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ডা. দেবাশীষ সেনগুপ্ত ও ডা. সুভ্র দেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। পরবর্তী অভিযুক্তরা ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশন নম্বর ১৬১২/২০২৪ দায়ের করেন। ওই রিভিশন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলার কার্যক্রমের ওপর এক বছরের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।’
রুবেল খান বলেন, ‘আমার মেয়ে রাইফাকে হারানোর সাত বছর পেরিয়ে আট বছরে পদার্পণ করলাম। দীর্ঘ এই সময় ধরে বুকভরা শোক নিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ আছি। মামলার বিচারকাজ এখনও চলমান। আশা করি, আদালতের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত বিচার পাব।’
রাইফার শোকাহত মা রুমানা খানম বলেন, “আজ আমার মেয়ের বয়স ১১ বছরে পড়ত। কিন্তু মাত্র আড়াই বছর বয়সে ম্যাক্স হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে আমি তাকে হারিয়েছি। সেই শোক বুকে নিয়েই জীবন পার করছি। ন্যায়বিচারের আশায় দেখতে দেখতে আট বছর পূর্ণ হলো। এখনও আমরা বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছি। আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। আশা করি, একদিন ন্যায়বিচার পাব।’












