প্রিয় চট্টগ্রাম: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্মকে স্মরণ ও উদযাপনের লক্ষ্যে শব্দচারী আবৃত্তি অঙ্গনের আয়োজনে “এক বৃন্তে দুটি কুসুম” শীর্ষক আবৃত্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিকালে থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শব্দচারী আবৃত্তি অঙ্গনের সভাপতি রাশেদ মুহাম্মদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাজমা সাঈদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী কামরুল হায়দার চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আবৃত্তিশিল্পী এস. এম. হামিদ। পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাজমা সাঈদ, আবৃত্তিশিল্পী ও প্রশিক্ষক শাওকী ইবনে সাফওয়ান এবং কবি ও ঔপন্যাসিক আরমানউজ্জামান।

বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁদের সাহিত্যকর্ম মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, প্রেম, সাম্য ও মুক্তির চেতনাকে ধারণ করে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের সৃষ্টিকে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের মূল পর্বে একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন রাশেদ মুহাম্মদ, শাওকী ইবনে সাফওয়ান, আরমানউজ্জামান, নাহিদা নাজু, শিমু বিশ্বাস, কামরুল হায়দার চৌধুরী, তানভীর সিকদার, গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, নাহিম নুপুর, রাজিব কুমার বিশ্বাস, এস. এম. হামিদ, আসমা তাহসীন বুশরা, জিহাদ উদ্দীন, নেজাম উদ্দীন, আনিকা শর্মিলা, শওকত হোসাইন, মাহী, সিদরাতুল মুনতাহা নিঝুম, আনাস ইকবাল, সামিরুল, রায়হান ও পারিজাত।
দ্বৈত আবৃত্তি পরিবেশন করেন কামরুল হায়দার চৌধুরী ও আসমা তাহসীন বুশরা, শাওকী ইবনে সাফওয়ান ও নাহিম নুপুর, আরমানউজ্জামান ও সামিহা ইবনাত সায়মা এবং নাহিদা নাজু ও রাশেদ মুহাম্মদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সংগীত শিল্পী এসবি সুমি।
আবৃত্তি পর্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাঁশি’, ‘কৃষ্ণকলি’, ‘ঐকতান’, ‘বিদায়’, ‘হঠাৎ দেখা’, ‘সোনার তরী’, ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’, ‘বোঝাপড়া’, ‘পরিচয়’, ‘অনন্ত প্রেম’, ‘এক গাঁয়ে’, ‘প্রশ্ন’ ও ‘জুতা আবিষ্কার’সহ বিভিন্ন কবিতা এবং কাজী নজরুল ইসলামের ‘যদি আর বাঁশি না বাজে’, ‘অভিশাপ’, ‘গোপন প্রিয়া’, ‘বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি’, ‘মানুষ’, ‘দারিদ্র্য’, ‘সর্বহারা’, ‘সাম্যবাদী’সহ বিভিন্ন কালজয়ী কবিতা পরিবেশিত হয়।
সাংস্কৃতিক পরিবেশে প্রাণবন্ত এ আয়োজনের মাধ্যমে রবীন্দ্র-নজরুলের সাহিত্য ও মানবিক দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।












