পেট ভরে ভাত-মাংস খায় মানুষ, কাউকে টাকা দিতে হয় না

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও, কক্সবাজার: পেট ভরে ভাত-মাংস খেয়ে মানুষেরা চলে যায়। এ জন্য কাউকে কোনো টাকা দিতে হয় না। দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে মাসের প্রতি শুক্রবার দুপুরে এ খাবারের ব্যবস্থা করেন কক্সবাজারের ঈদগাঁও যুব মানবিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্টাতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির আহমদ।

খাবার আছে যতক্ষণ, পরিবেশন করা হবে ততক্ষণ’- এমনতর স্লোগান নিয়ে সংগঠনটির প্রতিষ্টাতা মনির আহমদ প্রতি শুক্রবার দুপুরে মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করে। প্রথম দিকে ৫০থেকে ৬০ জন মানুষ এই খাবারে অংশ নিলেও এখন সেটি শতাধিক মানুষে দাঁড়িয়েছে। যা প্রতি শুক্রবারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সংগঠনটি এসব মানুষের খাবার দেওয়ার পাশাপাশি শীতবস্ত্র, শুকনো খাবার, শিক্ষা সামগ্রী বিতরণসহ সামাজিকভাবে নানা সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড করে আসছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ঈদগাঁও বাস ষ্টেশনস্থ যে মার্কেটে খাবার দেওয়া হচ্ছে; সেই মার্কেটের সামনে অসহায় ছিন্ন মুল মানুষের ঝটলা। এসব মানুষ সবাই হাত মুখ ধুয়ে পাটিতে বসে খেতে বসেছেন। এদের সাথে হতদরিদ্র পথচারীরাও রয়েছেন। সংগঠনের সদস্যরা কেউ প্লেটে তাদের মুরগির মাংস, ডিম পরিবেশন করছে। কেউ বা গ্লাসে পানি দিচ্ছেন। সবাই ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে কিনা কজনকে আবার তদারকিও করতে দেখা গেছে।

সেখানে খেতে আসা প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক নুরুল আলম জানান, বাজারে ভিক্ষা করি। এক জনের মাধ্যমে জানতে পারি এখানে প্রতি শুক্রবার ভালো খেতে দেয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভিক্ষা করে দুপুরে এখানে এসে ভালোমন্দ খায়।

ফকিরা বাজারের জন্নাতু নামে আরেক ভিক্ষুক বলেন, বাড়িতে মন ভরে খেতে পারিনে। আজ মন ভরে খেয়ে গেলাম। দোয়া করি আমরা এটা প্রতি শুক্রবার না; প্রতিদিন যেন এমনভাবে খেতে পারি।

ইজিবাইক চালক সাকের জানান, দরিদ্র মানুষ, তাই ভালো খাবার সব সময় খেতে পারেন না। সব সময় পাওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। এই সংগঠন শুক্রবারে একবার এমন আয়োজন করে ভালো লাগে।

জাফর আলম নামে এক ব্যক্তি জানান, ঈদগাঁও ষ্টেশনে এসেছিলেন একটা কাজে। এখানে আসার পর দেখলেন, বিনামূল্যে খাওয়ানো হচ্ছে। তাই তিনি খেয়ে নিলেন।

ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্ৱাব সভাপতি মিছবাহ উদ্দিন জানান, দরিদ্র মানুষ তৃপ্তির সঙ্গে খায়। এটি দেখতে তার খুব ভালো লাগে। তাই তিনি সময় পেলে চলে আসেন এখানে।

সংগঠনটির উপদেষ্টা এড. মোবারক সাঈদ জানান, আমরা ভালো আছি, আমরা এই নীতিতে বিশ্বাসী না। আমরা চাই যারা এই সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ, হতদরিদ্র তাদেরকে সাথে নিয়েই ভালো থাকতে চাই। সেই নীতি থেকেই আমরা এই খাবারের আয়োজন করে আসছি। প্রথমে ৫০/৬০ জন খাবার খেতে আসলেও এখন সেটি শতাধিক মানুষে পৌঁচ্ছেছে। নিজেরা অর্থ ছাড়াও বিভিন্ন দানশীল মানুষ এখানে সহযোগিতা করছেন।

সংগঠনটির প্রতিষ্টাতা মনির আহমদ বলেন, আমরা প্রতি শুক্রবারেরই বিভিন্ন আইটেমে খাবার দিয়ে থাকি। খাবার হিসেবে ভাতের সঙ্গে ডাল, ডিম, সবজি ও মুরগির মাংস দেওয়া হয়। কখনো খিচুড়ি মাংসও দেওয়া হয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে আমরা মানবতা, মমত্ববোধকে প্রাধান্য দেই।

তিনি জানান, আমাদের লক্ষ্য প্রতি মাসে প্রত্যক শুক্রবার আমাদের খাবার পরিবেশনের। ছোট ভাবে আমরা শুরু করেছি; যদি সমাজের বিত্তবানরা আমাদের এই কাজে এগিয়ে আসে তাহলে সেই লক্ষে আমরা পৌঁচ্ছে যাবো। পাশাপাশি সমাজের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সবাই নিজ নিজ এলাকা থেকে এভাবে এগিয়ে আসলে সমাজের এই হতদরিদ্ররা ভালো থাকবে।