মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু,কাপ্তাই (রাঙামাটি): পার্বত্যাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য অধিকার ও জেন্ডার সমতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে রাঙামাটি জেলাধীন কাপ্তাই সহ চার উপজেলায় কর্মরত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে জেন্ডার বিষয়ক এক কর্মশালা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) বেলা ১১টায় কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী ষ্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকার স্থানীয় এক রেস্টুরেন্টে ‘কমপ্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম (সিসিএইচপি)-এর উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হিল ফ্লাওয়ার’ (HILL FLOWER)-এর ব্যবস্থাপনায় এবং শেড (SHED), হোপ-অ্যাকশন-ট্রান্সফরমেশন ও জার্মানির দাতা সংস্থা ‘ব্রোট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’ (Brot for the World)-প্রোটেস্ট্যান্ট ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ প্রবীর খেয়াংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিসিএইচপির প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিজয় মারমা।
অনুষ্ঠানে জেন্ডার সমতা, সামাজিক সচেতনতা এবং প্রতিবেদন তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে মূল প্রবন্ধ ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সনজিদ তনচংগ্যা। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, জেনিফার অজান্তা তনচংগ্যা। এছাড়াও মাঠপর্যায়ে কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরেন বেসিক মেডিকেল ওয়ার্কার ঞোম্রাচিং মারমা এবং পপি তনচংগ্যা। কর্মশালায় কাপ্তাই, রাঙ্গুনীয়া, বিলাইছড়ি ও রাজস্থলী—এই চার উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেয়। উন্মুক্ত মতবিনিময় পর্বে সাংবাদিকরা পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকার জেন্ডার ভিত্তিক বৈষম্য, প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির চ্যালেঞ্জ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উত্থাপন করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাপ্তাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: নাজমুল হাসান বলেন, “পার্বত্য জনপদে জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণ এবং প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ভূমিকা প্রশংসনীয়। চার উপজেলার সাংবাদিকরা তাদের লেখনীর মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো নীতি-নির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন।” সভাপতির বক্তব্যে ডাঃ প্রবির খিয়াং বলেন, স্বাস্থ্য ও জেন্ডার সচেতনতা একে অপরের পরিপূরক। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে এই সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। কর্মশালায় আমন্ত্রিত গণমাধ্যমকর্মীসহ ‘হিল ফ্লাওয়ার’ সংস্থার মাঠকর্মী ও কর্মকর্তা মিলে প্রায় ৩০ জন উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আগামী দিনে জেন্ডার সমতা ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় মিডিয়া ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সমন্বয় ও নেটওয়ার্কিং আরও বৃদ্ধি করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।












