শফিউল আলম, রাউজান: সাম্পান ও নৌকা দিয়ে হালদা নদী পার হয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। রাউজান উপজেলার ১৩ নং নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন এলাকার গণি মিয়া হাট ঘাট থেকে সাম্পান ও নৌকা দিয়ে হালদা নদী পার হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর মোহরা এলাকায় প্রতিদিন যাতায়াত করে হাজার মানুষ। গত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে হালদা নদীর উপর রাউজানের কচুখাইন থেকে চট্টগ্রাম নগরীর মোহরা পর্যন্ত ১হাজার ফুট দৈর্ঘ্য ২৪ ফুট প্রশস্ত সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদদপ্তর হালদা নদীতে সয়েল টেষ্ট করলে ও সেতুরন নির্মান কাজ করা হয়নি। রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন সাম্পান করে গণিমিয়ার হাট ঘাট থেকে হালদা নদী পর হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর মোহরা এলাকায় উঠে চট্টগ্রাম শহর ও মোহরা কালুরঘাট এলাকায় যাতায়াত করেন।
নগরীর মোহরা, কালুরঘাট, নগরীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা গামেন্টসে চাকুরী করে কয়েক শতাধিক মহিলা। তারা প্রতিদিন চাকুরী শেষে মোহরা এলাকায় এসে সাম্পান করে হালদা নদী পার হয়ে বাড়ীতে আসেন। প্রতিদিন সকালে রাউজানের কচুখাইন গণিমিয়ার হাট ঘাট থেকে সাম্পান করে হালদা নদী পার হয়ে মোহরায় উঠে কর্মস্থলে যায়। হাটহাজারীর বাড়ী ঘোনা এলাকার বাসিন্দ্বারা হালদা নদীর গতি পরিবর্তন হওয়ায় হাটাহাজারী অংশ থেকে আলাদা হয়ে যায়। বাড়ী ঘোনা এলাকার বাসিন্দ্বারা নৌকা দিয়ে হালদা নদী পার হয়ে মাদ্রাসা ইউনিয়ন হয়ে হাটহাজারী উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া আজিমের ঘাট এলাকায় আজিমের ঘাট, কাগতিয়া, ডোমখালী এলাকার বাসিন্দ্বারা নৌকা দিয়ে হালদা নদী পার হয়ে হাটহাজারী গড়দুয়ারা, মাছুয়াঘোনা, নয়াহাট এলাকায় যাতায়াত করেন। হাটহাজারী গড়দুয়ারা, মাছুয়াঘোনা, নয়াহাট এলাকার বাসিন্দ্বারা ও নৌকা দিয়ে হালদা নদী পার হয়ে আজিমের ঘাট উঠে রাউজানে আসেন। রাউজান উপজেলার গহিরা ইউনিয়নের পশ্চিম কোতায়ালী ঘোনা এলাকায় মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী প্রকাশ মাঝের বাড়ী এলাকায় নৌকা দিয়ে হালদা নদী পার হয়ে হালদা নদীর ভাঙ্গনে মাঝের বাড়ীর একাংশ শতাধিক পরিবার ও হাটহাজারীর ছিপাতলী ও রাউজানের গহিরা ইউনিয়নের কোতোয়ালী ঘোনা এলাকার বাসিন্দ্বারা নৌকা দিয়ে হালদা নদী পার হয়ে প্রতিদিগন যাতায়াত করেন। রাউজানের নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের ইন্দিরা ঘাট বাজার থেকে নৌকা দিয়ে হালদা নদী পার হয়ে হাটহাজারীর ছিপাতলী, লাঙ্গলমোড়া এলাকার বাসিন্দারা রাউজানে আসে। রাউজানের গহিরা কাজী পাড়া, নদীম পুর ইন্দিরা ঘাট এলাকার বাসিন্দারা ও নৌকা দিয়ে হালদা নদী পার হয়ে হাটহাজারী এলাকায় যায়। রাউজানের নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফতেহ নগর, নদীম পুর, ফটিকছড়ি ইউনিয়নের জাফত নগর, দক্ষিন নিশ্চিন্তা পুর, হাটহাজারীর লাঙ্গল মোড়া, গুমান মর্দন, ধলই, এলাকার বাসিন্দারা প্রতিদিন লাঙ্গল মোড়া বাজার ও রাউজানের পশ্চিম ফতেহ নগর এলাকায় হালদা নদী পার হয়ে যাতায়াত করেন নৌকায় করে । লাঙ্গল মোড়া বাজার ও রাউজানের পশ্চিম ফতেহ নগর এলাকায় হালদা নদীর উপর শুস্ক মৌসুমে বৈরাম্যা ঘাঠের ইজরাদার হালদা নদীতে গাছের বলতি, বাশের খুটি দিয়ে বাশের সাকোঁ তৈয়ারী করে রাউজান ফটিকছড়ি, হাটাহাজারী এলাকার শত শত মানুষ পার করলে ও বর্ষার মৌসুমে নৌকা দিয়ে হালদা নদী পারাপার করেন।
হাটহাজারীর ধলই এলাকা ও ফটিকছড়ির রোসাঙ্গীরি ইউনিয়নের সাথে হালদা নদীতে কাজীর ঘাট দিয়ে একসময়ে নৌকা দিয়ে দুই উপজেলা বাসিন্দাদের পারাপার করলে ও গত কয়েক বৎসর ধরে ঘাট থাকলে ও নৌকা না থাকায় দুই উপজেলার বাসিন্দারা পায়ে হেটে কিছুদুর গিয়ে সড়ক পথে ব্যাটার রিক্সা ও সিএনজি অটোরিক্সায় করে যাতায়াত করেন। ফটিকছড়ি নাজির হাট পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড ও রোসাঙ্গীরি এলাকার সাথে হাটহাজারীর পূর্ব ধলই, ফরহাদাবাদ এলাকার বাসিন্দ্বারা নাপিতের হাট ঘাট দিয়ে নৌকা দিয়ে হালদা নদী পার হয়ে যাতায়াত করেন। নাপিতের হাট ঘাট এলাকার হালদা নদী দিয়ে দুই উপজেলার মানুষকে পারাপার কারী মাঝি দৌলত মুন্সি (৭৫) বলেন, দীর্ঘ তিন যুগ ধরে হালদা নদী দিয়ে নৌকায় করে মানুষ পারাপার করছি। হালদা নদী দিয়ে নৌকা দিয়ে মানুষ পারাপার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। চার পুত্র সন্তান বড় হয়ে বিয়ে করে আমার কাছ থেকে আলাদা হয়ে সংসার করার আমাকে বৃদ্ধ বয়সে প্রতিদিন নৌকা দিয়ে হালদা নদী দিয়ে মানুষ পারাপার করে জিবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। আমার তিন কন্যা সন্তান ছিল তাদেরকে বিয়ে দিয়েছি। ফটিকছড়ি নাজির হাট পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড ও হাটহাজারীর ফরহাদাবাদ ও ধলই এলাকার বাসিন্দারা এক সময়ে বংশাল ঘাট দিয়ে নৌকা দিয়ে হালদা নদী পার হয়ে যাতায়াত করতো। গত কয়েক বৎসর ধরে বংশাল ঘাট থাকলে ও নৌকা নেই ঘাট পারাপারের। বাসিন্দারা পায়ে হেটে হালদা নদীর বেড়িবাধ দিয়ে ব্যাটারে রিক্সা ও সিএনজি অটোরিক্সায় করে অনেক দুর পথ অতিক্রম করে প্রতিদিন যাতায়াত করেন। রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন এলাকার বাসিন্দা গার্মেন্টস কর্মী শিমু আকতার বলেন প্রতিদিন কচুখাইন গণিমিয়ার হাট ঘাট থেকে সাম্পানে করে হালদা নদী পার হয়ে নগরীর মোহরা এলাকায় গার্মেন্টসে চাকুরী করতে যেতে হয়। চাকুরী শেষে মোহরা এলাকা থেকে সাম্পান করে হালদা নদী পার হয়ে কচুখাইন গণি মিয়ার হাট ঘাটে উঠে বাড়ীতে যেতে হয়। গনি মিয়ার হাট ঘাট থেকে মোহরা এলাকায় হালদা নদীর উপর সেতু নির্মান করার জন্য সয়েল টেস্ট করা হলেও সেতু নির্মাণ করা হয়নি। এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, রাউজানের নোয়াপাড়া কচুখাইন গনিমিয়ার হাট ঘাট থেকে নগরীর মোহরা এলাকায় যাতায়াতের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদদপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা প্রকৌশলী এলাকা পরিদর্শন করেন। সেতু নির্মানের জন্য হালদা নদীর মাটি সয়েল টেষ্ট করেন। সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প নেওয়া হলে ও তা অনুমোদন হয়নি। একই ভাবে রাউজানের নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফতেহ নগর হাটহাজারীর লাঙ্গলমোড়া এলাকায় বৈরাম্যা ঘাট এলাকায় হালদা নদীর উপর সেতু নির্মানের প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্প অনুমোধন না হওয়ায় সেতুর নির্মান কাজ হয়নি।












